জ্যৈষ্ঠের দাবদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত, শ্রমজীবী মানুষ বিপাকে
চলমান তাপপ্রবাহ আরও অন্তত ২ থেকে ৩ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আকস্মিক তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রোদের তীব্রতায় ও বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। টানা ৬ দিনের তীব্র দাবদাহ আর ভ্যাপসা গরমে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর, নিকলী, কুলিয়ারচর, অষ্টগ্রাম, ইটনা, মিঠামইনসহ আশেপাশের উপজেলাগুলোতে স্থবিরতা নেমে এসেছে। প্রখর রোদ আর বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকায় ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের প্রাণ। তীব্র এই গরমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষ। জীবন-জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হলেও গরমে তাদের অবস্থা চরম নাভিশ্বাস।
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার কৃষি অফিসের তথ্য মতে তাপমাত্রা আজ বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস সহ আরো বেশি হতে পারে, তীব্র রোদের কারণে শ্রমজীবী মানুষ দীর্ঘক্ষণ কাজ করতে পারছেন না। একটু কাজ করেই গাছের ছায়ায় বা ঠাণ্ডা স্থানে আশ্রয় নিতে হচ্ছে তাদের। পৌর শহরের সিনেমা হলের চৌরাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা এক অটোরিকশাচালক জানান, “যে রোদ উঠছে, রাস্তায় রিকশা চালানো যাচ্ছে না। শরীর পুড়ে যাচ্ছে। যাত্রীও অনেক কম। দিনে যা আয় হচ্ছে, তা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।” একই অবস্থা দিনমজুর হযরত খলীরও। দুপুরের দিকে মাঠে বা খোলা জায়গায় কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দিন এনে দিন খাওয়া এই মানুষগুলোর দৈনিক আয় কমে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন।
রাস্তায় কমেছে মানুষের উপস্থিতি, ফাঁকা বাজার ও হাট ঘাট। তীব্র গরমের প্রভাব পড়েছে চেনা ব্যস্ততায়। প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। ফলে সকালের পর থেকেই রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল অনেকটাই কমে যাচ্ছে। দুপুরের দিকে পৌর শহরের প্রধান সড়কগুলো অনেকটাই জনশূন্য ও ফাঁকা হয়ে পড়ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, গরমের কারণে বাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা অনেক কমে গেছে। বিকেলের পর কিছুটা ভিড় হলেও দুপুরের দিকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ক্রেতাশূন্য থাকছে। পঞ্চাশোর্ধ অটোচালক মোঃ রইছ মিয়া জানান গরমে ক্লান্ত হয়ে গেছেন। যাত্রী নামিয়ে রাস্তার পাশে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে শরবত খাচ্ছেন। তিনি বলেন, গরমের মধ্যে একটা ভাড়া মারার পর পানি খেতে হয়, বিশ্রাম নিতে হয়। শরীরে জোর কমে আসে। বেশি গরম পড়ায় দীর্ঘক্ষণ কাজ করা সম্ভব হয় না। ক্লান্ত হয়ে পড়ি। আমরা গরিব মানুষ, পেট চালানোর জন্য গরম হলেও বের হতে হয়। নির্মাণ শ্রমিক জানো মিয়া জানান, গরমের মধ্যে কাজ করতে কষ্ট হয়। কিন্তু কাজ না করলে তো কেউ টাকা দেবে না। কাজ না করলে পরিবারসহ না খেয়ে থাকতে হবে। তাই গরমের মধ্যেও প্রতিদিন কাজে ছুটতে হচ্ছে।
তবে গরম বাড়ায় বিক্রি বেড়েছে শরবত বিক্রেতাদের। উপজেলার পৌর শহরের বাজিতপুর বাজারের সিনেমা হল চত্ত্বরের সামনে শরবত বিক্রি করছিলেন মীর হোসেন। তিনি জানান, গরমে তার বিক্রির পরিমাণ অনেক বেড়েছে। শ্রমজীবী মানুষ ও পথচারীরা শরবত খাওয়ার জন্য তার দোকানে ভিড় করছেন। আগের চেয়ে এখন শরবতের ব্যবসা ভালোই হচ্ছে। লেবুর শরবত প্রতি গ্লাস ১০ টাকা, আনারসের স্পেশাল শরবত প্রতি গ্লাস ২০টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে গরমের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশি ও হিটস্ট্রোকের ঝুঁকির মাত্রা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা গরমে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এবং তাদের চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে বিভিন্ন হাসপাতাল গুলো থেকে জানা গেছে।