জানা নিউজ

চরফ্যাশন-মনপুরার খাজনা-টোল সম্পূর্ণ মওকুফ

এমপি (ভোলা-৪) নুরুল ইসলাম নয়নের উদ্যোগে

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরফ্যাশন উপজেলায় মোট ৬১টি হাটবাজার থাকলেও নদীভাঙনের ফলে ইতোমধ্যে ২টি বাজার বিলীন হয়ে গেছে এবং আরও ৩টি বাজার কার্যত অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে। ফলে বর্তমানে সচল হাটবাজারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬টি। এসব হাটবাজার থেকে সরকারের নির্ধারিত বার্ষিক রাজস্ব ছিল ৮২ লাখ ৫৬ হাজার ২৫০ টাকা।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এই রাজস্বের সঙ্গে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ জামানত, ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ৫ শতাংশ আয়কর যুক্ত হয়ে মোট প্রায় ১৬ লাখ ৫১ হাজার ২৫০ টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ করতে হয়। জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই পুরো অর্থ নিজ উদ্যোগে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন।
এছাড়া চরফ্যাশন পৌরসভার আওতাধীন ১৩টি বাজারের জন্য জামানত, ভ্যাট ও আয়কর বাবদ প্রায় ১ কোটি ২ লাখ টাকাও তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিশোধ করেছেন বলে জানা গেছে। ফলে হাটবাজারগুলো সম্পূর্ণভাবে ইজারামুক্ত রাখা সম্ভব হয়েছে।
এই উদ্যোগের আওতায় শুধু হাটবাজার নয়, বিভিন্ন ধরনের পরিবহন থেকেও টোল আদায় বন্ধ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বোরাক, অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, ট্রাক, টলি, সিএনজি, নসিমন এবং ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল। এতে করে পরিবহন খাতে কর্মরত শ্রমিক ও চালকরাও সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে হাটবাজারে ইজারা ও খাজনার চাপ তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যবসা পরিচালনা সহজ হবে এবং পণ্যের দামও কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে আসতে পারে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উপকূলীয় এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক চাপ কমাতে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। এটি শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখবে না, বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও কিছুটা কমাতে সহায়ক হবে।
ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নের ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগে উপজেলা ও পৌরসভার আওতাধীন হাটবাজারগুলোতে আর কোনো খাজনা বা টোল আদায় করা হবে না। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের পরিবহন থেকেও টোল আদায় বন্ধ রাখা হয়েছে, যা এলাকায় ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।