বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এলপিজি আনে ব্যক্তি খাত, প্রাইভেট সেক্টর।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সেই কৌশল নিয়ে বলার সময়টা এখনো আসেনি। কিন্তু ডিলার পর্যায়ে যারা ধর্মঘটের কথা বলেছেন, তাদের উদ্দেশ্যে এবং এলপিজি অপারেটরদের মাধ্যমে আমরা তাদের কাছে একটা বার্তা দিচ্ছি। সেটি হলো, এলপিজি একটা অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট আইন আছে, এসেনশিয়াল কমোডিটি অ্যাক্ট ১৯৫৬। এই অত্যাবশ্যকীয় পণ্য যারা সরবরাহ করেন, ব্যবসা করেন, এটাকে কেউ যদি ম্যানিপুলেট করার চেষ্টা করেন, বাজার ব্যবস্থাকে অ্যাবিউজ করার চেষ্টা করেন এবং জনস্বার্থের বিরুদ্ধে যায় এরকম কোনো হুমকি-ধমকি বা পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করেন, তাহলে সরকার সেটা কঠোর হাতে দমন করবে। এটা সহ্য করব না আমরা। কারণ এর সঙ্গে লাখ লাখ, কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা জড়িত।
তিনি বলেন, ব্যবসার ক্ষেত্রে যেকোনো সমস্যা আসতে পারে। লাভ-লোকসানের হিসাব আসতে পারে, কমিশনের কমবেশি হিসাব আসতে পারে। কমার্শিয়াল ডিসপুট আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য। যারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আছেন, তারাও ধৈর্যের সঙ্গে তাদের কথা শুনতে প্রস্তুত আছেন, তারা শুনবেন এবং সেটি অ্যাড্রেস করবেন। কিন্তু বাজার পরিস্থিতিকে কেউ নিজ স্বার্থের জন্য ব্যবহার করবে, এটি সরকার হতে দেবে না এবং এটি বরদাস্ত করা হবে না।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই পণ্যটা বাংলাদেশ থেকে আহরিত কোনো পণ্য না, এটা একটা ইমপোর্টেড পণ্য। যে জায়গা থেকে বাংলাদেশের ব্যক্তি খাতের আমদানিকারকরা এটা এনে অভ্যস্ত, সেই জায়গাতে একটা যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজমান। সুতরাং তাদেরও সোর্সটা ডাইভার্সিফাই করতে হচ্ছে, যারা আমদানিকারক। এই পরিস্থিতিতে যেন কোনো দীর্ঘমেয়াদি কোনো শূন্যতা তৈরি না হয়, বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকে এবং আগামী বছরে পর্যাপ্ত সরবরাহ মেইনটেইন করা যায়, স্টার্ট টু এন্ড, সেটার কৌশল নির্ধারণের জন্যই আজ আমরা বসেছি। এটার সঙ্গে একটা বাড়তি মাত্রা যোগ হয়েছে রিটেইলারদের ধর্মঘটের বিষয়টা। তো তাদের মাধ্যমে আমরা রিটেইলারদের কাছে বার্তা দিয়েছি যে, বিইআরসি সিটিং করছে, বিইআরসির সঙ্গে তাদের কমার্শিয়াল ডিসপুটটা সেটেল করার জন্য। কিন্তু এটি একটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য, এটাকে উপজীব্য করে দেশকে জিম্মি করার কোনো প্রচেষ্টা সরকার মেনে নেবে না।
এলপিজির দাম এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশে, ১৫৩ টাকা কেজি, কলকাতায় ৮৩ টাকা কেজি– সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, কলকাতায় গভর্নমেন্ট সাবসিডি দেয়। সাবসিডি দিয়ে দাম কমিয়ে রাখে। এখানে তো আমরা কোনো সাবসিডি দিই না। সেজন্য এখানে দাম বেশি। কলকাতায় কার্ড দেয়। ওই যে বিভিন্ন প্রোগ্রাম আছে, প্রোগ্রামে কার্ড দেয়। সেই কার্ড থেকে ওদেরকে অর্ডার করতে হয়, তারপর একটা নির্দিষ্ট দিনে এলপিজিটা দিয়ে যায়। আমাদের তো এই সিস্টেম না, আমাদের ওপেন মার্কেট। আর এটা আমরা ইনহেরিট করছি, আমরা তো আর তৈরি করিনি। সুতরাং যখন মার্কেট ফ্রি মার্কেট হয়ে যায়, তখন তো ওঠানামা করে। বিশেষ করে এই পরিস্থিতিতে মিডল ইস্টে যে ক্রাইসিস, সৌদি আরবে ক্রাইসিস, এটাতে পড়ছে। সেজন্যই আমরা বসছি, যাতে এই সমস্যা থেকে আমরা উত্তরণ করতে পারি।