অভিনয়ের পাশাপাশি একজন উন্নয়নকর্মী হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন রাফিয়াত রশিদ মিথিলা। এবার পেশাগত জীবনে নতুন এক অধ্যায় শুরু করলেন এই তারকা। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের সঙ্গে দুই দশকের পথচলা শেষে যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে যোগ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে শুরু করেছেন শিক্ষকতাও। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে নতুন এই কর্মজীবনের খবর ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন মিথিলা। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আর্ভিং ইনস্টিটিউট ফর ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ট্রান্সলেশনাল রিসার্চ’-এ ‘অ্যাসোসিয়েট রিসার্চ সায়েন্টিস্ট’ হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। নতুন দায়িত্বে নিউইয়র্কভিত্তিক ‘আর্লি চাইল্ডহুড অ্যান্ড ফ্যামিলি হাব’ প্রকল্পের নকশা প্রণয়ন ও মূল্যায়নের নেতৃত্ব দেবেন তিনি। প্রারম্ভিক শৈশবের বিকাশ, পারিবারিক সম্পৃক্ততা এবং জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করবে এই উদ্যোগ। জন্ম থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের পরিবারকে তাদের সুস্থ বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও উপযুক্ত পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত করাই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। মিথিলা আশা করছেন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন খাতে তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে গবেষণার সঙ্গে স্থানীয় মানুষের প্রয়োজনের সমন্বয় ঘটাতে পারবেন। পাশাপাশি তথ্য-উপাত্ত ও গবেষণালব্ধ প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকল্পটির কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ায় ভূমিকা রাখতে পারবেন তিনি। গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষকতা পেশাতেও যুক্ত হয়েছেন মিথিলা। নিউইয়র্কের সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কে ‘অ্যাডজাঙ্কট অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর’ হিসেবে যোগ দিয়েছেন তিনি। সেখানে ‘নন-প্রফিট ম্যানেজমেন্ট’ বিষয়ে পাঠদান করছেন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অলাভজনক সংস্থার কার্যক্রম ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন এই উন্নয়নকর্মী। নতুন এই পথচলায় দীর্ঘদিনের কর্মস্থল ব্র্যাকের অবদানের কথাও বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন মিথিলা। পেশাগত জীবনে সংস্থাটির ভূমিকার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ব্র্যাকের সঙ্গে তার দুই দশকের পথচলার মধ্যে ১৫ বছরই কেটেছে ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন খাতে কাজ করার সেই অভিজ্ঞতা তার বর্তমান পেশাগত যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তিনি। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নত গবেষণা অবকাঠামো এবং মেধাবী গবেষকদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন মিথিলা। নতুন দায়িত্বের মধ্য দিয়ে নিজের বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে আরও বিস্তৃত পরিসরে কাজে লাগাতে চান তিনি। এ জন্য সবার কাছে দোয়া ও শুভকামনাও চেয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি উন্নয়নকর্মী হিসেবে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছেন মিথিলা। এবার গবেষণা ও শিক্ষকতার নতুন দায়িত্বে মনোযোগী হতে চান তিনি। আপাতত ক্যামেরার আলো থেকে কিছুটা দূরে থেকে জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও সমাজ উন্নয়নের কাজেই নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা এই তারকার।