ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করে ১৬ রানে ৬ উইকেট শিকার করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাইমন হারমার। তার বোলিংয়েই ১৭৬ রানে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। একই ম্যাচে বলের হিসাবে দ্রুততম বোলার হিসেবে টেস্টে ৩৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন কাগিসো রাবাদা। জয়ের জন্য ২৮৮ রানের লক্ষ্য দাঁড় করার প্রোটিয়ারা। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১১১ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। এই জয়ে অস্ট্রেলিয়াকে টপকে প্রথমবারের মতো টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছে দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১৬ সালের জানুয়ারির পর। এই লক্ষ্য তাড়া করার ব্যাপারে ইতিবাচকই ছিল অজিরা। কিন্তু শেষ দিনের প্রথম ওভারে দুই উইকেট হারানোর পর সেই চাপ থেকে আর বের হতে পারেনি। একপর্যায়ে ৬২ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ বাঁচানোর লড়াইয়ে নামে দলটি। তবে চা-বিরতির আগেই সেই লড়াইয়ের ইতি টানেন দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা। হারের পর আবারও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে অস্ট্রেলিয়া দল নিয়ে। বাজে ব্যাটিং এবং টস জিতে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এর ফলে শেষ ইনিংসে ক্ষয়িষ্ণু উইকেটে ব্যাট করতে হয় তাদের। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বলেন, ‘এই ম্যাচের ধারাটা এমন ছিল যে, উইকেটে থিতু হতে পারলে রান করা সম্ভব ছিল। কিন্তু প্রথম ঘণ্টার মধ্যেই ম্যাচ আমাদের হাতছাড়া হয়ে যায়। নিজেদের সুযোগ তৈরি করতে পারিনি।’ অস্ট্রেলিয়ার সেরা তিন ব্যাটারকে ফিরিয়ে সম্ভাবনা শেষ করে দেন কাগিসো রাবাদা। তার শিকারে পরিণত হন ম্যাট রেনশ (০), মারনাশ লাবুশেন (৪) ও ট্রাভিস হেড (১৪)। এর মধ্য দিয়ে টেস্টে ৩৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। এ জন্য রাবাদার লেগেছে মাত্র ১৩ হাজার ৮০৮ বল। দক্ষিণ আফ্রিকার ডেল স্টেইন (১৪ হাজার ৭১৯ বল) এবং পাকিস্তানের ওয়াকার ইউনিসের (১৪ হাজার ৯০৫ বল) চেয়েও দ্রুত এই কীর্তি গড়েছেন তিনি। রাবাদার পর হারমারও উইকেট তুলে নিতে শুরু করেন অজিদের। ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে ১২০ রান দিয়ে ১০ উইকেট নেন তিনি। টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো এক ম্যাচে ১০ উইকেট পাওয়ার কীর্তি গড়েন এই স্পিনার। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা জশ ইংলিস (৪) রানআউট হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার বাকি ছয় উইকেটই তুলে নেন হারমার। শেষ দিকে নবম উইকেটে ১৭.২ ওভার টিকে থেকে পরাজয় বিলম্বিত করেন কামিন্স ও নাথান লায়ন। কামিন্স ৯০ বল খেলে ১১ রান করেন। ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন লায়ন। তবে কামিন্সকে এলবিডব্লিউ করে এবং জশ হ্যাজলউডকে বোল্ড করে দক্ষিণ আফ্রিকার জয় নিশ্চিত করেন হারমার। নিজের বোলিং নিয়ে হারমার বলেন, ‘আমার কী করা দরকার, সেটি বুঝতে পেরেছিলাম। যতবার সম্ভব সঠিক জায়গায় বল রাখার চেষ্টা করেছি। গতি ও বলের গতিপথ নিয়ে কাজ করেছি। এত দিনের শেখা ছোট ছোট বিষয়গুলো কাজে লেগেছে।’ এই জয়ে আগামী বছর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা ধরে রাখার আশাও বাঁচিয়ে রাখলো দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০২৫ সালের ফাইনালে লর্ডসে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েই শিরোপা জিতেছিল তারা।