রাজধানীর ব্যস্ত জীবনে স্বস্তি আনতে মেট্রোরেলের চলাচলের সময় আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে রাতে ৪০ থেকে ৫০ মিনিট বাড়তি সময় ট্রেন চালানোর প্রস্তুতি চলছে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ হলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে মতিঝিল থেকে উত্তরাগামী সর্বশেষ মেট্রোরেল রাত ১১টা পর্যন্ত চলতে পারে। বর্তমানে এই ট্রেন ছেড়ে যায় রাত ১০টা ১০ মিনিটে। একইভাবে উত্তরা থেকে মতিঝিলগামী শেষ ট্রেনের সময়ও বাড়ানো হবে। এখন যেখানে রাত সাড়ে ৯টায় শেষ ট্রেন ছাড়ে, নতুন সূচিতে সেটি রাত ১০টা ১০ মিনিট পর্যন্ত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মেট্রোরেল পরিচালনাকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড, ডিএমটিসিএল সূত্র বলছে, চলতি মে মাসের শেষ দিকে বা পবিত্র ঈদুল আজহার পর নতুন সময়সূচি চালু হতে পারে। এর পাশাপাশি দুই ট্রেনের মাঝের ব্যবধানও কমানো হবে। বর্তমানে ব্যস্ত সময়ে পাঁচ মিনিট পরপর ট্রেন চললেও তা কমিয়ে সাড়ে চার মিনিট করার চিন্তা চলছে।
গত বছরের অক্টোবরে একবার সময় বাড়ানো হয়েছিল। তখন সকালে আধা ঘণ্টা আগে এবং রাতে আধা ঘণ্টা বেশি সময় চালু করা হয়। এখন দিনে মোট ২৯৭ বার ট্রেন চলাচল করে। নতুন সময়সূচি চালু হলে এই সংখ্যা আরও বাড়বে।
মেট্রোরেলের নিয়মিত যাত্রীরা বলছেন, রাতে শেষ ট্রেনেও ভিড় কমে না। তাই সময় বাড়ানো হলে যাত্রীদের সুবিধা হবে। পল্টনের একটি আইনজীবীর চেম্বারে কর্মরত মাহমুদুর রহমান বলেন, “কাজ শেষ করে রাত সাড়ে ১০টার আগে বের হতে পারি না। তখন মেট্রোরেল পাই না, বাসে যেতে খুব কষ্ট হয়। সময় বাড়লে যাতায়াত অনেক সহজ হবে।”
ডিএমটিসিএল কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের শুরুতেই সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু লোকবলের সীমাবদ্ধতায় ধাপে ধাপে সময় বাড়ানো হচ্ছে। তাদের ভাষায়, “সাড়ে তিন মিনিট পরপর ট্রেন চালানোর সক্ষমতা আছে। পর্যায়ক্রমে সেই লক্ষ্যে এগোনো হচ্ছে।”
বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে সোয়া চার লাখ যাত্রী মেট্রোরেলে চলাচল করেন। অথচ পরিকল্পনা অনুযায়ী এই সংখ্যা পাঁচ লাখ হওয়ার কথা। কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ কাজ শেষ হলে যাত্রীসংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডিএমটিসিএলের পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, “রাতে দুই দিক থেকেই সময় বাড়ানোর বিষয়ে পরীক্ষা চলছে। কবে থেকে কার্যকর হবে, সে সিদ্ধান্ত সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় নেবে।”
২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর ঢাকায় মেট্রোরেল চালু হয়। শুরুতে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকলেও পরে তা মতিঝিল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এখন এটি রাজধানীর অন্যতম নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।