চলতি বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় লাগতে পারে প্রায় ১০ মাস থেকে এক বছর। মঙ্গলবার (৫ মে) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের আগে কিছু প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। সে কারণে নির্ধারিত সময় ধরে ধাপে ধাপে নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। “স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হওয়ার পর শেষ হতে ১০ মাস থেকে এক বছর সময় লাগতে পারে,” বলেন তিনি।
এ সময় উপজেলা পরিষদ বিলুপ্তির গুঞ্জন নিয়েও কথা বলেন উপদেষ্টা। তিনি স্পষ্ট করে জানান, সরকার এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তার ভাষায়, “উপজেলা বাতিল করে দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত এই সরকার নেয়নি।” সংসদ সদস্যদের উপজেলা পরিষদে অফিস দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও বিতর্কের জবাব দেন তিনি। বলেন, আইন অনুযায়ী এমপিরা উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা, তাই তাদের জন্য অফিস থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
তিনি আরও বলেন, “এটি একটি আলাদা বিতর্ক হতে পারে যে এমপিদের উপদেষ্টা থাকা উচিত কি না। তবে অফিস দেওয়ার মাধ্যমে উপজেলাকে খাটো করা হচ্ছে, এমনটা নয়।” একই সঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেন, উপজেলা পরিষদকে অকার্যকর করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন খাতের অগ্রগতিও তুলে ধরেন জাহেদ উর রহমান। স্বাস্থ্য খাতে হাম রোগে শিশুমৃত্যুর বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও দেরিতে হাসপাতালে আসা এবং আইসিইউ সুবিধার সীমাবদ্ধতার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।” তবে টিকাদান কর্মসূচিতে অগ্রগতির কথাও জানান তিনি। ইতোমধ্যে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ৮৯ শতাংশ।
জ্বালানি খাত নিয়ে তিনি জানান, দেশে আপাতত সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোথাও বড় ধরনের লোডশেডিং হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে ভবিষ্যতে কিছু ঝুঁকি থাকতে পারে। “তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা জ্বালানি সংকট দেখা দিলে সীমিত লোডশেডিং হতে পারে,” বলেন তিনি।
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে উগ্রবাদের ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “এটিকে জঙ্গিবাদ বলুন বা উগ্রবাদ বলুন, এক ধরনের নিম্নমাত্রার ঝুঁকি যে আছে, সেটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। না হলে সরকার সতর্কতা জারি করত না।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা এখন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও নিরাপত্তা খাতের বিষয়গুলোও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।