জানা নিউজ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের করা বাণিজ্য চুক্তি সংসদে আনার দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের করা বাণিজ্য চুক্তি সংসদে আনার দাবি তুলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের ২৪তম কার্যদিবসে তিনি বলেন, চুক্তিটি দেশের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত, তাই তা সংসদে উত্থাপন করে আলোচনা হওয়া উচিত।

জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে রুমিন ফারহানা বলেন, চুক্তির নানা ধারা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ছিল। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনের আগে ৯ ফেব্রুয়ারি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “সুশীল সমাজ তখন বলেছিল, একটি অনির্বাচিত সরকারের এমন চুক্তি করা উচিত নয়। নির্বাচিত সরকার এলে তা বিবেচনা করা যেতে পারত। কিন্তু তা হয়নি।”

তিনি বলেন, মঙ্গলবার মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠকে দুই দেশের আমদানি-রপ্তানি ভারসাম্য, কৃষি ও জ্বালানি পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং নীতি সংস্কারের বিষয় সামনে এসেছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যেই এই চুক্তির কথা বলা হচ্ছে। তবে এর শর্ত ও প্রভাব জনগণের সামনে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

রুমিন ফারহানা সংসদে দাবি জানান, সরকার চাইলে ৬০ দিনের মধ্যে চুক্তি বাতিলের সুযোগ রয়েছে, সে বিবেচনায় বিষয়টি সংসদে তুলে পর্যালোচনা করা উচিত। তিনি বলেন, “চুক্তিটি সংসদে আনা হোক।”

তার বক্তব্যের সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ কার্যপ্রণালি বিধির ৩০১ নম্বর বিধির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, পয়েন্ট অব অর্ডারে নতুন কোনো বিষয় তোলা যায় না, এটি নোটিশ আকারে আনতে হবে। পরে বিষয়টি নোটিশ দিয়ে উত্থাপনের পরামর্শ দেন স্পিকার।

সংসদে উত্থাপিত এই বক্তব্যের পর চুক্তিটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ভারসাম্য এবং আন্তর্জাতিক চুক্তির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন সামনে এসেছে।

রুমিন ফারহানার বক্তব্যে মূলত তিনটি বিষয় উঠে আসে, চুক্তি স্বাক্ষরের সময়কাল, চুক্তির শর্ত নিয়ে আপত্তি, এবং সংসদীয় পর্যালোচনার দাবি। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, বিষয়টি শুধু বাণিজ্য নয়, নীতিগত ও সাংবিধানিক আলোচনারও অংশ হতে পারে।