জানা নিউজ

বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম, বাড়ল তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার জেরে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে, এই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। খবর রয়টার্সের। গতকাল বুধবার বেলা ১১টা ১১মিনিট নাগাদ আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ড বা প্রতি আউন্স (১১.৬৬৩৮ গ্রাম) খাঁটি স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৪৭১ দশমিক ৩৮ মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। এর আগের কার্যদিবসে অবশ্য স্বর্ণের দাম ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল। পাশাপাশি, আগামী আগস্ট মাসে সরবরাহের চুক্তি অনুযায়ী মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার মূল্যও আজ শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৯৯ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ওএএনডিএর সিনিয়র মার্কেট অ্যানালিস্ট কেলভিন ওয়াং বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি শান্তি চুক্তির জন্য চাপ দিলেও ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি শেষ পর্যন্ত টিকবে কি না, তা নিয়ে বাজারে এখন বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত যদি আরও দীর্ঘায়িত বা বৃদ্ধি পায়, তবে স্বর্ণের বাজারে যেটুকু ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা ছিল, তা বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে। গতকাল বুধবার পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, বাহরাইন ও কুয়েতসহ অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলাগুলো হয় ব্যর্থ হয়েছে, নয়তো মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তা প্রতিহত করেছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনাতেও তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম গতকাল বুধবার ১ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে। তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংক ঋণের সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। সাধারণত অর্থনৈতিক সংকটে স্বর্ণকে একটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে কোনো লভ্যাংশ না দেওয়া এই ধাতুর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়। গত মঙ্গলবার ক্লিভল্যান্ড ফেডারেল রিজার্ভের প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যামাক সতর্ক করে বলেছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ যদি এভাবে বাড়তে থাকে, তবে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে খুব শিগগিরই সুদের হার আরও বাড়াতে হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী মুদ্রানীতি কেমন হবে, তা অনুমান করতে বিনিয়োগকারীরা আজ মার্কিন নন-ফার্ম পে-রোলডাটা এবং আগামী শুক্রবার প্রকাশ হতে যাওয়া কর্মসংস্থান রিপোর্টের দিকে গভীর নজর রাখছেন। স্বর্ণের পাশাপাশি আজ অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও পতন দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট সিলভার বা রোপ্যের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৪ দশমিক ৮২ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯২৭ দশমিক ২৫ ডলারে, এবং প্যালাডিয়ামের দাম প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩৬৯ দশমিক ৬৪ ডলারে স্থিতিশীল রয়েছে।