ইন্দোনেশিয়ার দাবানলে সৃষ্ট দূষিত বাতাসের কারণে জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায়। এ পরিস্থিতিতে গতকাল সোমবার ধোঁয়াশাজনিত অসুস্থতার চিকিৎসায় ভর্তুকি চালু করেছে সিঙ্গাপুর।অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার কয়েকটি এলাকায় স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সোমবার বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় আবারও শীর্ষে ছিল সিঙ্গাপুর। এল নিনোর তীব্র প্রভাবে বোর্নিও ও সুমাত্রা দ্বীপের দাবানল আরও ছড়িয়ে পড়েছে। এসব আগুন থেকে প্রতিনিয়ত বিষাক্ত ধোঁয়াশা ছড়াচ্ছে। সিঙ্গাপুর থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। দাবানলের কারণে স্থানীয়ভাবে তীব্র ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। এতে শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বেড়েছে। এ ধরনের অসুস্থতায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছেছে। সিঙ্গাপুর সরকার গতকাল সোমবার এমন কয়েকটি কর্মসূচি চালু করেছে, যার আওতায় নাগরিকেরা ধোঁয়াশাজনিত অসুস্থতার চিকিৎসা কম খরচে নিতে পারবেন। গত রোববার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এ ভর্তুকির আওতায় রয়েছে অ্যালার্জিজনিত নাকের প্রদাহ, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস, চোখের প্রদাহ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের বাধাজনিত রোগ, ঊর্ধ্ব শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ এবং এসব রোগের জটিলতা। যোগ্য সিঙ্গাপুরের নাগরিকদের অধিকাংশের জন্য চিকিৎসা ব্যয় সর্বোচ্চ ১০ সিঙ্গাপুর ডলার (৮ মার্কিন ডলারের কম) নির্ধারণ করা হয়েছে। ৬৭ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণদের ক্ষেত্রে এ ব্যয় সর্বোচ্চ পাঁচ সিঙ্গাপুর ডলার। সিঙ্গাপুর সর্বশেষ ২০১৫ সালে এ ভর্তুকি কর্মসূচি চালু করেছিল। সে সময় ইন্দোনেশিয়ার বনাঞ্চলে দাবানলের ধোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহ ধরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এতে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় স্কুল এবং বাতিল হয় ফ্লাইট। প্রতিবেশী মালয়েশিয়ায় বায়ুর মান কিছুটা উন্নত হওয়ায় গতকাল সোমবার অধিকাংশ এলাকার স্কুল খুলেছে। তবে দক্ষিণাঞ্চলীয় জোহর রাজ্যের পাশাপাশি রাজধানী কুয়ালালামপুরের কয়েকটি এলাকা এবং মধ্যাঞ্চলীয় সেলাঙ্গর রাজ্যের কিছু স্কুল বন্ধ রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই দাবানল দেখা দেয়। তবে এ বছর এল নিনোর কারণে আগুনের তীব্রতা বেড়েছে। গত চার দশকে তুলনাযোগ্য রেকর্ড রাখা শুরুর পর এটি অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জমি পরিষ্কার করতে গাছপালা কেটে পুড়িয়ে ফেলার প্রচলিত পদ্ধতিকেও দায়ী করেছেন। তাদের মতে, এ পদ্ধতি প্রাকৃতিকভাবে আগুন প্রতিরোধী ভূপ্রকৃতির বৈশিষ্ট্য বদলে দিয়েছে। সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়া ধোঁয়াশার কারণে আঞ্চলিক বিমান চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। মালয়েশিয়ার স্বল্প খরচের বিমান সংস্থা ফায়ারফ্লাই জানায়, সতর্কতামূলক নিরাপত্তাব্যবস্থা হিসেবে শনিবার থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত কুয়ালালামপুরের কাছে সুলতান আবদুল আজিজ শাহ বিমানবন্দর ও সিঙ্গাপুরের সেলেতার বিমানবন্দরের মধ্যে ফ্লাইট চলাচল বাতিল করা হয়েছে। ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ফায়ারফ্লাই বলেছে, ‘আবহাওয়ার পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির কারণে আমরা নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। ফ্লাইটের সময়সূচিতে আরও পরিবর্তন হলে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের সরাসরি জানানো হবে।’