প্রায় দুই যুগ পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টায় ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে মাঠে শুরু হবে বহুল প্রতিক্ষীত ম্যাচটি। প্রস্তুতি ম্যাচে ধরাশয়ী হলেও এ টেস্ট নিয়ে আশাবাদী সফরকারিরা। চোটে জর্জর দলের এখনও চূড়ান্ত একাদশ ঠিক হয়নি। অপরদিকে বাংলাদেশকে হালকাভাবে দেখছেন না অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। বরং টাইগারদের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারকে নিয়ে সতর্ক থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি। ম্যাচের আগের দিন গতকাল বুধবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে টেস্ট সিরিজ নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। অস্ট্রেলিয়া এরই মধ্যে নিজেদের একাদশ ঘোষণা করেছে। চোটের সমস্যার কারণে বাংলাদেশ এখনো একাদশ ঠিক করে পারেনি। শান্ত জানিয়েছেন, সকালেই একাদশ চূড়ান্ত হবে, এখনও একাদশ সাজানো হয়নি। দলে কিছু ছোটখাটো চোট সমস্যা রয়েছে। লিটনের চোট নিয়ে তিনি জানান, ‘লিটন শতভাগ ফিট আছে এখন। লিটন ভাই আসায় অবশ্যই ব্যাটিংয়ের গভীরতা আরও বেড়েছে। ধারাবাহিকতা আছে তার। কাল যে টেস্ট শুরু হবে আশা করি ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে ভালো করবে। প্রস্তুতি ভালো হয়েছে।’ পরে শরিফুলকে নিয়ে আশার কথা জানিয়েছেন শান্ত, শরিফুল ফিটনেস টেস্ট পাস করেছে। ভালো বোলিংও করছে। আশা করি দ্বিতীয় টেস্টে খেলবে। পায়ের চোটের আগে দারুণ ফর্মে ছিলেন এবাদত হোসেন। কিন্তু চোট কাটিয়ে ফেরার পর ভালো করতে পারছেন না। তবে অধিনায়কের আস্থা আছে এবাদতকে নিয়ে। শান্ত বলেন, ‘এবাদত ইনজুরির আগে দুর্দান্ত খেলছিল। চোট কাটিয়ে ফেরার পর ২-৩টি টেস্ট খেলেছে। ভালো বোলিং করছে। খেলার সুযোগ পেলে আশা করি দলের জন্য বিশেষ কিছু করবে।’ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশকে কেমন প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন-এমন প্রশ্নে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বলেন, ‘আমি মনে করি না, আমি কখনো সহজ কোনো টেস্ট ম্যাচ খেলেছি। তাই বাংলাদেশও শক্ত প্রতিপক্ষ হবে বলেই আমার ধারণা। গত কয়েক বছরে তারা বেশ কিছু বড় জয় পেয়েছে এবং দলে বেশ কিছু ভালো প্রতিভা রয়েছে। তাই আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’ বাংলাদেশের দল নিয়েও এখনই চূড়ান্ত মূল্যায়নে যেতে চাননি অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক, তিনি বলেন, ‘এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা কঠিন। হয়তো কয়েক সপ্তাহ পর আমাকে জিজ্ঞেস করলে আরও ভালোভাবে বলতে পারব। তবে আইসিসির কোনো ইভেন্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে গেলে আপনি কিছুটা নার্ভাস থাকবেন, কারণ তাদের দলে বেশ কিছু বড় মাপের খেলোয়াড় রয়েছে।’ দীর্ঘ দুই যুগ পর ক্যাঙ্গারুর দেশে টেস্ট খেলতে নেমে ইতিহাস গড়ার বড় সুযোগ এখন শান্তদের সামনে। নিজেদের ঘরের মাঠে বিশ্বসেরা অজিদের হারানোর অভিজ্ঞতা থাকলেও, তাদের কন্ডিশনে গিয়ে নিজেদের সেরাটা প্রমাণ করাই টাইগারদের মূল চ্যালেঞ্জ। মারারা স্টেডিয়ামের পেস সহায়ক উইকেটে টস এবং প্রথম সেশনের বোলিং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে কঠিন এই ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশ লাল-সবুজের প্রতিনিধি হিসেবে কতটা লড়াই গড়ে তুলতে পারে, এখন তা-ই দেখার অপেক্ষা।