জানা নিউজ

ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীদের হামলায় সিটি ইউনিভার্সিটির ২৫ কোটি টাকার ক্ষতি: উপাচার্য

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের হামলায় অন্তত ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিটি ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান।

সোমবার (২৭ অক্টোবর)  সিটি ইউনিভার্সিটির কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান বলেন, হামলার সময় ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির ৫-৬ জন শিক্ষার্থীকে আমাদের শিক্ষার্থীরা আটক করেছিল। তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এছাড়া আরও ১১ জন শিক্ষার্থীকে আটক রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য স্বশরীরে এসে ক্যাম্পাসের ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করবেন এবং তার কাছেই ওই ১১ জনকে হস্তান্তর করা হবে।

তিনি আরও বলেন, রোববার রাতে থুতু ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ড্যাফোডিল ও সিটি ইউনিভার্সিটির দুজন শিক্ষার্থীর মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। রাত ১০টার দিকে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে যায়। কিন্তু এরপর রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত ড্যাফোডিলের অসংখ্য দুষ্কৃতকারী শিক্ষার্থী আমাদের ক্যাম্পাসে হামলা চালায়। তারা প্রধান ফটক, সীমানা প্রাচীর, ক্লাসরুম ও অফিস কক্ষ ভাঙচুর করে। প্রায় ১৩টি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়।

উপাচার্য বলেন, হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের অফিস রুমে প্রবেশ করে ভিসি, প্রোভিসি, রেজিস্ট্রারসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কক্ষের কম্পিউটার ও সরঞ্জাম ভাঙচুর করে, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র লুট করে। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ক্যাম্পাসে এসে আমি হতভম্ব হয়ে যাই। শিক্ষার্থীদের দ্বারা এমন বর্বর হামলা কীভাবে সম্ভব? এরপরই ড্যাফোডিলের উপাচার্যকে বিষয়টি জানিয়ে প্রতিনিধি পাঠানোর অনুরোধ জানাই।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হলেও তারা কোনো সহযোগিতা করেনি। হামলায় আমাদের ২৫-২৬ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, আরও প্রায় শতাধিক আহত। তারা শিক্ষার্থীসুলভ আচরণ করেনি। ভাঙচুরের সময় আমাদের শিক্ষার্থীরা ১১ জনকে আটক করে। প্রশ্ন হচ্ছে, একজন প্রকৃত শিক্ষার্থী কি ল্যাপটপ, কম্পিউটার, এসি চুরি করতে পারে? আমরা চাই আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হোক। তা না হলে আইনের আশ্রয় নেব। হামলায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

উপাচার্য আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে একটি প্রতিনিধি দল বিষয়টি পর্যবেক্ষণের জন্য ক্যাম্পাসে আসবে।

তিনি বলেন, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আজকের জন্য সকল ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সিন্ডিকেট সভা শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।