জানা নিউজ

কিংয়ের ঝড়ে মিরপুরে ৮ উইকেটে হারল বাংলাদেশ, সিরিজে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

মিরপুরে স্পিনসহায়ক উইকেটেও বাংলাদেশের ব্যাটারদের ব্যর্থতার সুযোগ নিয়ে সহজ জয় তুলে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পাওয়ার পরও দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৪২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। জয়ের জন্য ১৭০ রানের লক্ষ্য পেয়ে ব্রেন্ডন কিংয়ের অপরাজিত ৮১ ও কাভেম হজের ৩১ রানের ইনিংসে ভর করে ৩৫.১ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা। গতকাল শনিবার চতুর্থ দিনে ৮ উইকেটের এই জয়ে দুই টেস্টের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ২৭২ রানের জবাবে ২৪৫ রান করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাতে ২৭ রানের লিড পায় স্বাগতিকরা। প্রথম ইনিংসে সাদমান ইসলামের ১০৫ ও তাওহিদ হৃদয়ের ৪২ রান ছিল বাংলাদেশের সংগ্রহের মূল ভিত্তি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে জোমেল ওয়ারিক্যান পাঁচটি এবং জশুয়া বিশপ ও শামার জোসেফ দুটি করে উইকেট নেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। আগের দিন ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল দল। চতুর্থ দিনের সকালে সেই অবস্থান থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি স্বাগতিকরা। এক প্রান্তে লড়াই চালিয়ে যান নাঈম হাসান। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক তুলে নিয়ে ৫২ রান করেন তিনি। তাঁর সঙ্গে নিচের দিকের ব্যাটারদের ছোট ছোট অবদানে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৪২ রান। জাকের আলী করেন ২২ রান, সাদমান ইসলাম ১৩।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনারদের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটারদের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে দ্বিতীয় ইনিংসে। রোস্টন চেজ ৩৬ রান দিয়ে পাঁচটি উইকেট নেন। জোমেল ওয়ারিক্যানের শিকার চার উইকেট। প্রথম ইনিংসেও পাঁচ উইকেট নেওয়া ওয়ারিক্যান ম্যাচে মোট নয়টি উইকেট পেলেন।
১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন দুই ক্যারিবীয় ওপেনার ব্রেন্ডন কিং ও জন ক্যাম্পবেল। বাংলাদেশের স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ উইকেট থেকে তেমন সুবিধা আদায় করতে পারেননি। প্রথম পাঁচ ওভারেই ১৬ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৯ ওভারে বিনা উইকেটে রান পৌঁছে যায় ৩৯-এ।
বৃষ্টি, আলোকস্বল্পতা ও বজ্রপাতের কারণে কয়েক দফা খেলা বন্ধ হলেও রান তোলার গতি কমাননি দুই ওপেনার। ২১তম ওভারে শরীফুল ইসলামের বলে ক্যাম্পবেল বোল্ড হলে ভাঙে ১১২ রানের উদ্বোধনী জুটি। ৫৫ বলে ছয়টি চার ও একটি ছক্কায় ৪৯ রান করেন তিনি। এর আগে ৪৪ রানে থাকা কিংয়ের ক্যাচ ছাড়েন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ক্যাচ ধরতে গিয়ে আঙুলে চোট পেয়ে মাঠও ছাড়তে হয় তাঁকে। কিছু সময়ের জন্য নেতৃত্ব দেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
ক্যাম্পবেলের বিদায়ের পর তেজনারায়ণ চন্দরপলকে মাত্র ১ রানে ফিরিয়ে দেন হাসান মাহমুদ। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে। চন্দরপল ফেরার পর কাভেম হজকে নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন কিং। ১১৫ বলে ৮১ রান করে অপরাজিত থাকেন এই ওপেনার। তাঁর ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও একটি ছক্কা। হজ ২৭ বলে ৩১ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন। ৩৫.১ ওভারে ২ উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এই জয়ে শুধু সিরিজে এগিয়ে যাওয়াই নয়, বাংলাদেশের ঘরের মাঠে টানা পাঁচ টেস্ট জয়ের ধারাও থামিয়ে দিল ক্যারিবীয়রা। মিরপুরের স্পিনসহায়ক উইকেটে বাংলাদেশের স্পিনাররা যেখানে কার্যকর হতে পারেননি, সেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা দুই ইনিংসেই স্বাগতিক ব্যাটারদের চাপে রেখেছেন।
ম্যাচের ফল বাংলাদেশের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার পথও কঠিন করে তুলেছে। পয়েন্ট তালিকায় চতুর্থ স্থানে থাকা বাংলাদেশের বর্তমান চক্রে বাকি পাঁচ টেস্টের অন্তত চারটিতে জিততে হবে এবং একটি ম্যাচ ড্র করতে হবে। অন্যদিকে অষ্টম স্থানে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের লক্ষ্য সেরা পাঁচের মধ্যে থেকে চক্র শেষ করা।