নেতৃত্বশূন্য থাকার পর আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অষ্টম কমিশন। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন কমিশনের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে যান এবং কার্যক্রম শুরু করেন।
নতুন কমিশনের চেয়ারম্যান এ কে এম আসাদুজ্জামানের সঙ্গে কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম খান ও সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া। এর আগে ১৮ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারা।
১৯ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার দুদক কার্যালয়ে পৌঁছান। পরে সকাল ১০টায় তারা দুদকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় দুদক সচিব সাইদুর রহমান, মহাপরিচালকসহ উপপরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ নেতৃত্বশূন্য থাকা সংস্থাটির কার্যক্রমে স্থবিরতার অবসান হলো। নতুন নেতৃত্বের অধীনে দুদকের অনুসন্ধান, তদন্ত ও মামলা পরিচালনাসহ দুর্নীতি দমন কার্যক্রমে গতি আসবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।
গত ৩ মার্চ তৎকালীন দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ পদত্যাগ করেন। এরপর ১৮ আগস্ট নতুন চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়। ফলে ৩ মার্চ থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত ১৬৬ দিন দুদক নেতৃত্বশূন্য ছিল।
১৮ আগস্ট নতুন কমিশন নিয়োগের পর তিন সদস্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ৬(১) ধারায় প্রথমে তিনজনকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে একই আইনের ৫(১) ধারায় তাদের মধ্য থেকে এ কে এম আসাদুজ্জামানকে চেয়ারম্যান করা হয়।
নতুন চেয়ারম্যানের পরিচয়
বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের জন্ম ১৯৫৯ সালের ১ মার্চ। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
১৯৮৩ সালে জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি। এরপর ১৯৮৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগে এবং ২০০১ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর পর, ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে স্থায়ী হন তিনি।
দীর্ঘ সময় কমিশন শূন্য থাকার পর নতুন নেতৃত্বের হাতে দুদকের দায়িত্ব এসেছে। এখন অনুসন্ধান, তদন্ত ও মামলা পরিচালনাসহ সংস্থাটির নিয়মিত কার্যক্রম কতটা গতিশীল হয়, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।