জানা নিউজ

১১ বছর পর প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফিরছেন রোনালদিনিয়ো

বল পায়ে জাদু দেখানো আর চিরচেনা হাসি নিয়ে আবারও মাঠে নামছেন ব্রাজিলের ফুটবল কিংবদন্তি রোনালদিনিয়ো। দীর্ঘ ১১ বছর পর প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফিরছেন ৪৬ বছর বয়সী সাবেক এই তারকা। আগামী ১৫ নভেম্বর ইতালির তৃতীয় বিভাগের দল রাভেন্নার হয়ে স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বী ফোরলির বিপক্ষে খেলবেন তিনি। রাভেন্না ক্লাবের পক্ষ থেকে তাঁর প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
২০১৫ সালে ব্রাজিলের ক্লাব ফ্লুমিনেন্সের হয়ে সর্বশেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেছিলেন রোনালদিনিয়ো। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। এরপর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রদর্শনী ও প্রীতি ম্যাচে দেখা গেছে তাঁকে। তবে এবার ফিরছেন আনুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতায়, ইতালির সিরি সি লিগের ম্যাচ দিয়ে।
গত জুনে রাভেন্নার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন রোনালদিনিয়ো। ক্লাবটির মালিক ইগনাজিও চিপ্রিয়ানি তাঁর বন্ধু। চুক্তির পর ক্লাবটির মালিকানায়ও অংশীদার হন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা। তবে চুক্তির সময় তিনি মাঠে খেলবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল।
গত ২০ আগস্ট ইতালির রাভেন্না শহরে পৌঁছে সমর্থকদের সামনে হাজির হন রোনালদিনিয়ো। সমুদ্রসৈকতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁকে ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। তখন মাঠে ফেরার বিষয়ে সরাসরি নিশ্চয়তা না দিলেও তিনি বলেছিলেন, ক্লাবকে সাহায্য করতেই এসেছেন। ক্যারিয়ারের ৩০০তম গোল করার সম্ভাবনার কথাও উড়িয়ে দেননি।
রোনালদিনিয়োর মাঠে ফেরার ঘোষণাকে বিশেষ ঘটনা হিসেবে দেখছে রাভেন্না। ক্লাবটির ভাষ্য, তাঁর প্রত্যাবর্তন শুধু একটি ম্যাচে খেলার বিষয় নয়, বরং ফুটবলের প্রতি মানুষের আবেগ ও ভালোবাসাকে নতুন করে জাগিয়ে তোলার উপলক্ষ। ক্লাব কর্তৃপক্ষ মনে করছে, তাঁর উপস্থিতি দলটির প্রতি সমর্থকদের আগ্রহ বাড়াবে এবং রাভেন্নাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনার সুযোগ তৈরি করবে।
ক্লাবের মালিক ইগনাজিও চিপ্রিয়ানির পরিকল্পনা ছিল, রোনালদিনিয়োকে যুক্ত করে পুরো শহরকে দলের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসা। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তাঁকে দলে নেওয়া হয়। চিপ্রিয়ানির কাছে রাভেন্নার জার্সিতে রোনালদিনিয়োর ক্যারিয়ারের শেষ গোল দেখার বিষয়টিও বিশেষ আকাঙ্ক্ষার।
রোনালদিনিয়োর ফুটবল ক্যারিয়ার সাফল্যে ভরা। ১৯৯৮ সালে ব্রাজিলের গ্রেমিওর হয়ে পেশাদার ফুটবলে যাত্রা শুরু করেন তিনি। পরে খেলেছেন প্যারিস সেন্ট জার্মেই, বার্সেলোনা, এসি মিলান ও ফ্লুমিনেন্সের মতো ক্লাবে। রাভেন্না তাঁর ক্যারিয়ারের নবম ক্লাব।
বার্সেলোনায় খেলার সময়ই বিশ্ব ফুটবলে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করেন রোনালদিনিয়ো। ২০০৫ সালে জেতেন ব্যালন ডি’অর। ২০০২ সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ৯৭টি ম্যাচ। ২০০৪ ও ২০০৫ সালে টানা দুইবার ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কারও জেতেন।
ক্লাব ফুটবলেও তাঁর সাফল্য উল্লেখযোগ্য। বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন। এসি মিলানের হয়ে জিতেছেন ইতালির সিরি আ। অসাধারণ ড্রিবলিং, দৃষ্টিনন্দন পাস, ফ্রি-কিক ও সৃজনশীল খেলার জন্য সমর্থকদের কাছে আলাদা জনপ্রিয়তা ছিল তাঁর।
এবারের প্রত্যাবর্তন হবে ইতালিতে তাঁর দ্বিতীয় অধ্যায়। ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত এসি মিলানে খেলেছিলেন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর একই দেশের আরেকটি ক্লাবের জার্সিতে মাঠে নামবেন এই কিংবদন্তি।
রাভেন্নার বর্তমান অবস্থানও ম্যাচটিকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে। সিরি সির ‘বি’ গ্রুপে ১০ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দলটি। শীর্ষে থাকা স্পেৎজিয়ার চেয়ে তারা আট পয়েন্ট পিছিয়ে। ফোরলির বিপক্ষে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে রাভেন্নার নিজেদের মাঠ স্তাদিও ব্রুনো বেনেলিতে।
রোনালদিনিয়ো কতক্ষণ মাঠে থাকবেন বা ম্যাচে তাঁর ভূমিকা কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে তাঁর প্রত্যাবর্তন ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ইতিমধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন পর প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফিরে সেই পুরোনো জাদু দেখাতে পারেন কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সমর্থকেরা।