সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে সমপ্রতি একের পর এক হামলা পরিচালনা করতে থাকা ইয়েমেনি হুথি গোষ্ঠীকে ঠেকাতে সৌদিতে সেনা পাঠিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির সেনাবাহিনীর আন্তঃবিভাগ সংযোগ দপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গতকাল মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাক আইএসপিআরের মহাপরিচালক বলেছেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় ইতোমধ্যে সৌদি আরবে সেনা পাঠিয়েছে পাকিস্তান এবং সেখানে ইতোমধ্যে তাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পরে গতকাল বৃহস্পতিবার আইএসপিআর থেকে দেওয়া বিবৃতিতেও স্বীকার করা হয়েছে এ তথ্য। উল্লেখ্য, ইরানের মদতপুষ্ট শিয়া মুসলিম গোষ্ঠী হুথি ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও দেশটির উত্তরাঞ্চলের দখল নেয়। ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ আল হাদি সৌদি আরবে পালিয়ে যান। হুথিদের হটাতে এবং ইয়েমেনে প্রেসিডেন্সিাল শাসন ফিরিয়ে আনতে ২০১৫ সালে ইয়েমেনে অভিযান শুরু করে ইয়েমেনি বাহিনী এবং সৌদি সামরিক জোট। সেই থেকে সানা ও ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চল হুথিদের দখলে আছে, আর দক্ষিণাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল পরিষদ। টানা কয়েক বছর যুদ্ধের পর ২০২২ সালে ইয়েমেন ও সৌদি আরবের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করে হুথি বিদ্রোহীরা; কিন্তু এই শান্তি ও স্থিতাবস্থা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। জুলাই মাসে গৃহযুদ্ধ নতুন করে শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী হুথিরা ভূখণ্ড দখলের লড়াইয়ে ইয়েমেনি সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট কাউন্সিল সরকারের পাশাপাশি হুথিদের শীর্ষ শত্রুর তালিকায় রয়েছে সৌদি আরবও। চলতি সপ্তাহে এই নিয়ে ৩ বার সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করল হুথি বাহিনী।
সৌদি আরবে দীর্ঘকাল ধরেই রয়েছে পাকিস্তানি সেনা
পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে কয়েক দশক ধরে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বজায় রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবেই প্রশিক্ষণ, পরামর্শ প্রদান এবং অন্যান্য ধরনের সামরিক সহযোগিতার মতো বিভিন্ন কাজের জন্য সৌদি আরবে পাকিস্তানি সামরিক সদস্যদের মোতায়েন করা হয়ে আসছে। আইএসপিআর প্রধানের সামপ্রতিক বক্তব্যে এবং বিবৃতিতে সৌদি আরবে বর্তমানে কতজন পাকিস্তানি সদস্য রয়েছেন বা তাদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব কী-সে সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে সিএনএনকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী বলেছেন, মক্কা জোটটি হঠাৎ করে গড়ে ওঠেনি; বরং পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করেই এটি গঠিত হয়েছে।
সূত্র : সিএএন, ফার্স্টপোস্ট