দেশে সড়ক দুর্ঘটনা যেন প্রতিদিনের স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হচ্ছে। প্রতিনিয়ত সড়কে ঝরছে প্রাণ, পঙ্গুত্ব বরণ করছেন অনেকে, আবার অসংখ্য পরিবার হারাচ্ছে তাদের উপার্জনক্ষম সদস্য। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নানা উদ্যোগ ও আইন থাকলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই মাসে দেশে ৪৫৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪১৬ জন নিহত ও ৬২৯ জন আহত হন। আগস্টে দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫১৩টিতে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৪৮১ জন, আহত হন ৬৬৪ জন। সেপ্টেম্বরে ৪৪২টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ৪২৩ জন এবং আহত হন আরও ৬৭৪ জন। অর্থাৎ, এই তিন মাসে মোট ১ হাজার ৪১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৩২০ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন ১ হাজার ৯৬৭ জন। এ পরিসংখ্যান শুধু দুর্ঘটনার ভয়াবহতাই নয়, ইঙ্গিত দিচ্ছে সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ঘাটতিরও। সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে শুধু চালকের অসতর্কতাকে দায়ী করলে সমস্যার পুরো চিত্র বোঝা যাবে না। ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, অদক্ষ চালক, যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাব, ফিটনেসবিহীন গাড়ির চলাচল, সড়কের দুর্বল নকশা এবং কার্যকর নজরদারির ঘাটতিও কারণেও বাড়ছে এসব দুর্ঘটনা। এমতাবস্থায় এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। চালকদের লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণ যাচাই, যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা, অতিরিক্ত গতির বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্যবস্থা এবং মহাসড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সড়কের নকশা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার ব্যবস্থাও জোরদার করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা কোনো অনিবার্য দুর্যোগ নয়; যথাযথ পরিকল্পনা, শৃঙ্খলা ও আইনের কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে এর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, চালক ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। শুধু দুর্ঘটনার পর তদন্ত বা সাময়িক অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতির স্থায়ী পরিবর্তন আনা যাবে না। সড়ককে নিরাপদ করতে হলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার, নিয়মিত নজরদারি এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের জীবন রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার এখনই সময়।