জানা নিউজ

সমান গোল করেও কেন মেসির চেয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে এমবাপ্পে?

চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াই জমে উঠেছে দুই মহাতারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং লিওনেল মেসির মধ্যে। ফিলাডেলফিয়ায় শারীরিক শক্তি প্রদর্শন আর টানটান উত্তেজনায় ঠাসা ১০০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে চলা ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করে ফ্রান্সকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছেন এমবাপ্পে।

 প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের ৭০ মিনিটে অধিনায়কের করা ওই একমাত্র গোলেই ১-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে ব্লুজরা। আগামী বৃহস্পতিবার বোস্টনে শেষ আটের লড়াইয়ে মরক্কোর মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে মাত্র ১৯ ম্যাচে এমবাপ্পের মোট গোল সংখ্যা দাঁড়ালো ১৯-এ। বিশ্বমঞ্চে লিওনেল মেসির অলটাইম গোল রেকর্ড স্পর্শ করা থেকে এখন মাত্র এক গোল দূরে আছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।
 এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-২ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে গোল করে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে ২০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন মেসি; পেছনে ফেলেন মিরোস্লাভ ক্লোসেকে।বর্তমানে দুই সুপারস্টারই ৭টি করে গোল নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের দৌড়ে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন।

সেই সঙ্গে বিশ্বকাপের টানা দুটি আসরে অন্তত ৭টি করে গোল করার ইতিহাসেও তারা দুজনই একমাত্র কীর্তিমান। তবে সমান গোল করা সত্ত্বেও গোল্ডেন বুটের তালিকায় মেসির ওপরে অবস্থান করছেন এমবাপ্পে। কিন্তু কেন?ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নিয়ম অনুযায়ী, যদি দুই বা ততোধিক খেলোয়াড় সমান সংখ্যক গোল করে টুর্নামেন্ট শেষ করেন, তবে শীর্ষস্থান নির্ধারণের প্রথম টাইব্রেকার হলো অ্যাসিস্ট বা গোল করানো। ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপ এই অ্যাসিস্ট নির্ধারণ করে থাকে।

চলতি টুর্নামেন্টে এমবাপ্পে ইতিমধ্যে দুটি অ্যাসিস্ট (গোল করানো) করেছেন, যেখানে মেসির নামের পাশে এখনো কোনো অ্যাসিস্ট নেই। আর এই অ্যাসিস্টের মারপ্যাঁচেই গোল্ডেন বুটের তালিকায় মেসির চেয়ে এগিয়ে আছেন ফরাসি অধিনায়ক।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে অ্যাসিস্টের কারণে গোল্ডেন বুটের ভাগ্য নির্ধারণের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ২০১০ বিশ্বকাপে থমাস মুলার, ওয়েসলি স্নাইডার, দাভিদ ভিয়া এবং দিয়েগো ফোরলান; সবাই ৫টি করে গোল করে টুর্নামেন্ট শেষ করেছিলেন। তবে বাকিদের চেয়ে বেশি (৩টি) অ্যাসিস্ট থাকায় সেবার জার্মানির মুলার গোল্ডেন বুট জিতে নেন।

যদি খেলোয়াড়দের গোল এবং অ্যাসিস্টের সংখ্যাও সমান হয়ে যায়, তখন ফিফা পরবর্তী টাইব্রেকার হিসেবে ‘মিনিট প্রতি কার্যকারিতা’ বিবেচনা করে। অর্থাৎ, সমতার মধ্যে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে যিনি মাঠে সবচেয়ে কম সময় (মিনিট) খেলেছেন, তাকেই তালিকায় ওপরে রাখা হবে। কম সময়ে বেশি গোল করার দক্ষতাকে পুরস্কৃত করতেই এই নিয়ম।

যেহেতু নকআউট পর্বের কেবল শুরু হলো এবং কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনালের মতো হাইভোল্টেজ ম্যাচ এখনো বাকি, তাই গোল্ডেন বুটের লড়াই শেষ হতে অনেক দেরি।

আপাতত ৭ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে এমবাপ্পে। ৭ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে মেসি। ৫ গোল করে তালিকার তৃতীয় স্থানে আছেন নরওয়ের স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড এবং সমান ৫ গোল নিয়ে তার ঠিক পরেই আছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন।

তবে কেইনের চেয়ে কম সময় মাঠে খেলায় (দ্বিতীয় টাইব্রেকার নীতিতে) ওপরে জায়গা করে নিয়েছেন হালান্ড। ৪ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট নিয়ে শীর্ষ পাঁচের শেষ স্থানটি ধরে রেখেছেন বর্তমান ব্যালন ডি’অর জয়ী উসমান দেম্বেলে।