জানা নিউজ

সবচেয়ে বড় টাইফুন বাভি ধেয়ে আসছে তাইওয়ানের দিকে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলগুলোতে আঘাত হানার পর, কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় টাইফুন বাভি তাইওয়ানের দিকে ধেয়ে আসছে। এ অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার দ্বীপটিতে ‘ধ্বংসাত্মক’ বাতাসের সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ। টাইফুন বাভির প্রভাবে কয়েক মিটার উঁচু ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়েছে। আজ শুক্রবার ও আগামীকাল শনিবার এটি তাইওয়ানের উত্তরাঞ্চলে আঘাত হানার পর চীনে প্রবেশ করতে পারে। চলতি সপ্তাহেই প্রাণঘাতী ঝড়ে চীনের বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাইওয়ানের কিলুং থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। সেন্ট্রাল ওয়েদার অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (সিডব্লিউএ) আবহাওয়াবিদ জেসন চেং এএফপিকে বলেন, ‘তুলনামূলক ধ্বংসাত্মক’ বাতাস তাইওয়ানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে। এর মধ্যে বন্দরনগরী কিলুং ও উপকূলীয় ইলান কাউন্টিও রয়েছে। গত সোমবার গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে সুপার টাইফুন হিসেবে আঘাত হানার পর, প্রশান্ত মহাসাগর অতিক্রম করার সময় বাভির শক্তি হ্রাস পেয়ে টাইফুনে পরিণত হয়। সিডব্লিউএ জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার টাইফুনটির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৮৪ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২২৭ কিলোমিটার। জেসন চেং বলেন, ঘণ্টায় ঝড়ো বাতাসের বিস্তৃতি ৩৮০ কিলোমিটার হওয়ায় ১৯৯৫ সালে ঝড়ের আকার পরিমাপের পদ্ধতি পরিবর্তনের পর এটি তাইওয়ানে আঘাত হানা সবচেয়ে বড় টাইফুন। তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে উত্তরাঞ্চলের ইলান ও কিলুং এলাকায়। তবে টাইফুনের কেন্দ্র থেকে দূরের এলাকাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। তাইওয়ানের মূল ভূখণ্ড থেকে দূরবর্তী দ্বীপগুলোতে চলাচলকারী অধিকাংশ ফেরি সার্ভিস স্থগিত করা হয়েছে। তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড উপকূল থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের তাইতুং কাউন্টি ও অর্কিড দ্বীপসংলগ্ন সমুদ্রে ইতোমধ্যে চার থেকে ছয় মিটার উচ্চতার ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে। কিলুং বন্দরে মাছ ধরার নৌকার মালিক ৭৫ বছর বয়সী তুং ওয়ান-ছাই বলেন, আসন্ন টাইফুন নিয়ে তিনি ‘কিছুটা উদ্বিগ্ন।’ তিনি এএফপিকে বলেন, ‘এটি অনেক বড় ও শক্তিশালী।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি সরাসরি স্থলভাগে আঘাত না করলেও, এর ঝড়ো বাতাসের বিস্তৃতি অত্যন্ত বড়। বিশেষ করে বর্তমান গতিপথ অনুযায়ী এটি উত্তর-পশ্চিম দিকের টাইফুনে পরিণত হবে, যা সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি ডেকে আনবে।’ ‘খুবই বিপজ্জনক’- ৫৩ বছর বয়সী মাছ ধরার নৌকার অধিনায়ক চ্যাং টিং-হসিন জানান, টাইফুনের কারণে পরিকল্পনার কয়েক সপ্তাহ আগেই তিনি গত বুধবার রাতে বন্দরে ফিরে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি খুবই বিপজ্জনক। ফিরে না এলে এমনকি এক দিন দেরি হলেও ও টাইফুনের গতিপথ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকলে এবং এটি দ্রুত এগিয়ে এলে, তখন আর পালানোরও সময় পাওয়া যাবে না।’ জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রত্যন্ত দ্বীপগুলোতে আজ শুক্রবার স্কুল ও সুপারমার্কেট বন্ধ থাকবে। জাপানের গণমাধ্যম জানায়, বাভির আগমনের আগে আনারস চাষিরা আগেভাগেই ফল সংগ্রহ করেছেন। জেলেরা তাদের নৌকা নিরাপদে বেঁধে রেখেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগটির আঘাত হানার আশঙ্কায় কয়েক ডজন ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে। তাইওয়ান অতিক্রম করার পর সপ্তাহের শেষে চীনের পূর্বাঞ্চলে বাভির আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে। চলতি সপ্তাহেই চীনের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে বৈরী আবহাওয়া ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ডেকে এনেছে। সেখানে ঝড়ে ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছে। বেশ কয়েকটি নদীর পানি বিপদসীমা ছাড়িয়েছে এবং একটি জলাধারের বাঁধ ভেঙে গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস মেরিন সার্ভিস গত সপ্তাহে জানিয়েছে, চলতি বছরের জুন ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠের জুন মাস। আগামী মাসগুলোতে নতুন তাপমাত্রার রেকর্ডও হতে পারে। সমুদ্রের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে, ক্রান্তীয় ঝড় আরও শক্তিশালী হয়। একই সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতাও বাড়ে, যা ভারী বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে। এর সঙ্গে চলতি বছর আবারও ফিরে এসেছে প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়া এল নিনো। এটি প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর অন্তর এটি দেখা দেয়।