সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম টিকটক ও ইউটিউবের কনটেন্ট শিশুদের জন্য এখনো যথেষ্ট নিরাপদ নয় বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাজ্যের যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম। নতুন এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই দুই প্ল্যাটফর্ম এখনো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে পারেনি। প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগে অফকম শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা জোরদারে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। সংস্থাটি জানায়, মেটা, স্ন্যাপ ও রোবলক্স শিশুদের অনলাইনে প্রলোভন বা ‘গ্রুমিং’ ঠেকাতে আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে সম্মত হয়েছে। খবর বিবিসির। অফকম আরও জানিয়েছে, অনেক প্ল্যাটফর্ম ন্যূনতম বয়সসীমা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এ বিষয়ে তারা সরকারের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করবে বলেও জানিয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সরকারি পরামর্শ গ্রহণ কার্যক্রম চলছে। ইউটিউব দাবি করেছে, তারা শিশুদের জন্য বয়স উপযোগী ও নিরাপদ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করছে। অন্যদিকে টিকটক বলেছে, তাদের বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করায় তারা খুবই হতাশ। অফকমের প্রতিবেদনে বলা হয়, টিকটক ও ইউটিউব শিশুদের কাছে ক্ষতিকর কনটেন্ট পৌঁছানো কমাতে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। প্রতিষ্ঠান দুটি মনে করে, তাদের বর্তমান কনটেন্ট ব্যবস্থাই শিশুদের জন্য নিরাপদ। তবে অফকমের মতে, তাদের হাতে থাকা বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ বলছে বাস্তবে পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। প্রযুক্তি বিশ্লেষক ম্যাট নাভারা বলেন, এখন অনলাইন ক্ষতির বিষয়টিকে শুধু কনটেন্ট সরিয়ে দিলেই সমাধান হচ্ছে না। বরং প্রশ্ন উঠছে কেন এমন ক্ষতিকর কনটেন্ট শুরুতেই শিশুদের সামনে পৌঁছাচ্ছে। অফকমের প্রধান নির্বাহী ডেম মেলানি ডস বিবিসিকে বলেন, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাকে গুরুত্ব না দেওয়ার সংস্কৃতি ছিল। সেটি রাতারাতি বদলানো সম্ভব নয়। তবে প্রয়োজন হলে কঠোর তদন্ত ও ব্যবস্থা নিতে অফকম প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। অফকমের এক জরিপে দেখা গেছে, ৮ থেকে ১২ বছর বয়সী ৮৪ শতাংশ শিশু অন্তত একটি বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে, যদিও এসব প্ল্যাটফর্মে ন্যূনতম বয়সসীমা ১৩ বছর। এতে সংস্থাটি আরও কঠোর আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছে। অনলাইন নিরাপত্তা গবেষক অধ্যাপক ভিক্টোরিয়া বেইন্স বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা চালুর পরও ১৬ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি সরানো সম্ভব হয়নি। তার মতে, ব্যবহারকারীর আচরণ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত বয়স শনাক্তে প্ল্যাটফর্মগুলোকে আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হতে পারে।