রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তোলপাড় চলছে সারা দেশে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার কাজ সম্পন্ন করতে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এর আগে বুধবার (২০ মে) বিকেলে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন মূল আসামি সোহেল রানা (৩৪)। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দিতে সোহেল জানান, ঘটনার আগে তিনি ইয়াবা সেবন করেছিলেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে তার আগে থেকে কোনো শত্রুতা ছিল না।
জবানবন্দি অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে তাদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। এরপর বাথরুমে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে ছোট্ট রামিসা। এ সময় তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকলে সোহেল গলাকেটে শিশুটিকে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে মাথা কেটে আলাদা করে এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে। এরপর মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে এবং কাটা মাথাটি একটি বালতিতে রেখে জানালার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যায়।
রামিসা ঢাকার একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার সময় পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজে না পেয়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান। অনেক ডাকাডাকিতেও সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকলে শিশুটির মস্তকবিহীন দেহ এবং বালতিতে রাখা কাটা মাথা উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পরপরই স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পালিয়ে যাওয়া সোহেল রানাকে পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জবানবন্দি শেষে আদালত সোহেল রানাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। স্বপ্না আক্তারকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলায় আরও একজন অজ্ঞাত আসামি পলাতক রয়েছেন।
ঘটনার পর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রামিসার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে স্বজনরা তাকে গ্রামের বাড়িতে দাফন করেন।