জানা নিউজ

শিক্ষার্থীদের সমর্থন করে বিতর্কের মুখে সালমান

ভারতে নিট (এনইইটি) পরীক্ষার অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। তবে সেই সমর্থনের পরই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি। কারণ, নেটদুনিয়ায় আবারও ভাইরাল হয়েছে তার একটি পুরোনো ভিডিও, যা ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইনস্টাগ্রামে একটি দীর্ঘ বার্তা প্রকাশ করেন সালমান। সেখানে তিনি লেখেন, ‘এটি খুবই শান্তিপূর্ণ একটি আন্দোলন ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তা সহিংস রূপ নিয়েছে। আহত শিক্ষার্থীদের এবং তাদের পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু। আমি আনন্দিত যে দেশের শিক্ষার্থীরা উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে একত্রিত হয়েছে। তারা যে নিষ্ঠা, ধৈর্য ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিজেদের দাবি তুলে ধরছে, তা প্রশংসার যোগ্য। এই আন্দোলনকে রাজনৈতিক রং দেওয়া উচিত নয়। এটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষাব্যবস্থার বিষয়। আশা করি সরকার তাদের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।’ সালমানের এই পোস্ট প্রকাশের পর অনেকেই তার অবস্থানকে স্বাগত জানান। তবে একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তার একটি পুরোনো ভিডিও। ভিডিওটি একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের, যেখানে সালমান খানের বাবা ও প্রখ্যাত চিত্রনাট্যকার সেলিম খান অতীতের একটি ঘটনার কথা বলছিলেন। তিনি জানান, একসময় তাদের বাড়িতে ‘গণেশ’ নামে এক ব্যক্তি নিয়মিত আসতেন। তার জন্য বিশেষ আপ্যায়নের ব্যবস্থাও থাকত। পরে তিনি জানতে পারেন, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হলেই ওই ব্যক্তি সেটি সংগ্রহ করে তাদের কাছে নিয়ে আসতেন। সেলিম খানের এই কথার পর অনুষ্ঠানে হাসির রোল পড়ে যায়। তখন সালমান খানও হাসতে হাসতে বলেন, ওই প্রশ্নপত্রগুলো মূলত তার জন্যই আনা হতো। ভিডিওটি সে সময় মজার ঘটনা হিসেবেই উপস্থাপিত হয়েছিল। তবে বর্তমান সময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সমর্থনে সালমানের অবস্থানের পর ভিডিওটি নতুন করে ভাইরাল হওয়ায় অনেক নেটিজেন তার সমালোচনা শুরু করেছেন। তাদের দাবি, অতীতের এমন মন্তব্যের পর এখন প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় এক ধরনের দ্বৈত মানসিকতার পরিচয় মিলছে। অবশ্য সালমানের ভক্তদের একাংশ এই সমালোচনা মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, এটি বহু বছর আগের একটি হাস্যরসাত্মক টেলিভিশন অনুষ্ঠানের অংশ। স্কুলজীবনের পরীক্ষা নিয়ে করা একটি মজার মন্তব্যকে বর্তমান সময়ের জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত নয়। সব মিলিয়ে শিক্ষার্থী আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে প্রশংসা কুড়ানোর পাশাপাশি পুরোনো ভিডিওর কারণে সমালোচনার মুখেও পড়েছেন সালমান খান। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনো চলছে বিস্তর আলোচনা।