জানা নিউজ

লোহিত সাগরে হুথিদের হামলায় ৪ নাবিক ও ২ উদ্ধারকর্মী নিহত

লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলায় একটি পণ্যবাহী জাহাজের ৪ নাবিক নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় উদ্ধারকাজে যাওয়া ইয়েমেনের ২ উদ্ধারকর্মীও নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় ও কোস্টগার্ড। খবর রয়টার্সের। গতকাল বুধবার ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার শিকার জাহাজটি মিসরের মালিকানাধীন টিহামাহ। হামলায় নিহত চার নাবিকের মধ্যে তিনজন পাকিস্তানি ও একজন ইন্দোনেশীয় নাগরিক। হামলার পর জাহাজটির ক্রুরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। রয়টাসের প্রতিবেদনে বলার হয়েছে, ঘটনাটি নিশ্চিত হলে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর জাহাজে হুথিদের হামলায় এটিই হবে প্রথম প্রাণহানির ঘটনা। পরে হুথিরাও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে একটি জাহাজে হামলার কথা স্বীকার করেছে। তবে তারা জাহাজটির নাম প্রকাশ করেনি। গোষ্ঠীটির দাবি, জাহাজটিতে সৌদি সামরিক সরঞ্জাম বহন করা হচ্ছিল। ব্রিটিশ নৌবাহিনী-সংশ্লিষ্ট ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার ওই প্রণালিতে একটি জাহাজ অজ্ঞাত কোনো বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জাহাজটির ডেক ও মাস্তুলের আকৃতি এবং ঘটনাস্থলের ছবি ও স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণ করে এটিকে টিহামাহ হিসেবে শনাক্ত করেছে। জাহাজ চলাচলের তথ্যেও ১১ আগস্ট ইয়েমেনের মুরাদ এলাকার কাছে টিহামাহর অবস্থান পাওয়া গেছে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যামব্রিও জানিয়েছে, ১১ আগস্ট জাহাজটিতে হামলা হয়েছিল। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও হামলায় তিন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইয়েমেনের কোস্টগার্ড জানিয়েছে, উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর হুথিরা আবার হামলা চালালে ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের দুই সদস্য নিহত হন। এ ঘটনায় মোট ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাতজন জাহাজের ক্রু, দুজন কোস্টগার্ড সদস্য এবং একজন ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের সদস্য। হুথিরা গত ২০ জুলাই লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, ইয়েমেনে সৌদি অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে রিয়াদ ইয়েমেনে কোনো ধরনের অবরোধ আরোপের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এদিকে বাব আল-মান্দেব ও লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত হুথিদের হামলার প্রথম দফার পর এই পথে জাহাজ চলাচল অর্ধেকের বেশি কমে যায়। গত মাসে হুথিদের অবরোধ ঘোষণার পর তা আরও কমেছে। জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের হিসাবে, গত সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ৩২টি জাহাজ বাব আল-মান্দেব দিয়ে চলাচল করেছে। অবরোধের আগে এই সংখ্যা ছিল দিনে প্রায় ৫০টি। ইরানের উপকূলীয় হরমুজ প্রণালিতে পরিস্থিতি আরও সংকটজনক। গত সোমবার সেখানে মাত্র ছয়টি জাহাজ চলাচল করেছে। যুদ্ধের আগে এই পথে প্রতিদিন প্রায় ১৩০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত। সূত্র : রয়টার্স