জানা নিউজ

রিট খারিজ, মেয়র হিসেবে ইশরাককে শপথ পড়াতে বাধা নেই

ইশরাকের ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাল

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ না পড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিট খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। এর ফলে, ইশরাক হোসেনকে শপথ পড়াতে বাধা থাকলো না। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। পরে আইনজীবীরা জানান, দুই গ্রাউন্ডে ইশরাকের শপথ ঠেকাতে চাওয়া রিট খারিজ হয়েছে। এক. যিনি রিট করেছেন তিনি সংক্ষুব্ধ পক্ষ নন, জনস্বার্থে তার রিট চলতে পারে না। দুই. নির্বাচন ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ফোরাম আছে। সে ফোরামে বিবাদী পক্ষ (নির্বাচন কমিশন ও ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস) আপিল করতে পারতেন, সেটি তারা করেননি। নির্বাচন কমিশন গেজেটও প্রকাশ করেছে। তাই তৃতীয়পক্ষ এসে রিট করা গ্রহণযোগ্য নয়। এদিকে, ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনের গেজেট স্থগিত চেয়ে করা রিট শুনানির পর আদালতকে উদ্দেশ্য করে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। তবে বিষয়টি অপরিচিত কেউ করে থাকতে পারে বলে উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি হিসেবে মন্তব্যকারীর পক্ষে আদালতে ক্ষমা চেয়েছেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। গতকাল বৃহস্পতিবার রিটরে আদেশ ঘোষণার আগে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী বলেন, আদেশের আগে আমার ব্রাদার জাজ আইনজীবীদের উদ্দেশ্য কথা বলবেন এবং তিনিই আজকের আদেশ ঘোষণা করবেন। পরে বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী বলেন, গতকাল (গত বুধবার) শুনানি শেষ হবার পর কোনো একজন আদালতের বিষয়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন। এটি আমাদের নজরে এসেছে। এসময় বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী বলেন, ক্লায়েন্ট আসবে যাবে। বার-বেঞ্চ থাকবে। পরে বারের সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, তৃতীয় পক্ষ বা অপরিচিত বা সিজনাল কেউ বলতে পারে। তবে যেই বলুক তার পক্ষে নি:শর্ত ক্ষমা চাচ্ছি। এরপর বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী আদেশ ঘোষণা করেন। ইশরাক হোসেনের শপথ নিয়ে দায়ের করা রিট সরাসরি খারিজ (সামারিলি রিজেক্ট) করে আদেশ দেন। এর আগে, গত ১৪ মে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ঘোষণা করে দেওয়া রায় স্থগিতের পাশাপাশি তাকে মেয়র পদে শপথ না পড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। এছাড়া নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণায় প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ করে সংশ্লিষ্ট বিচারকের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়। মো. মামুনুর রশিদ নামে এক ব্যক্তির পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী আকবর আলী হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন। রিটে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়কে মেয়র পদে ইশরাককে শপথ না পড়াতে এবং আইন মন্ত্রণালয়কে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্ট বিচারকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হাইকোর্টের নির্দেশনা চাওয়া হয়। প্রসঙ্গত, গত ২৭ এপ্রিল বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায় ও ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল বা রিভিউ করতে সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠান ঢাকার দুই বাসিন্দা। নোটিশে মো. ইশরাক হোসেনের নামে গেজেট প্রকাশ এবং তাকে শপথ পড়ানো থেকে বিরত থাকতেও বলা হয়। কিন্তু ওইদিন রাতেই ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করে গেজেট জারি প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। জানা গেছে, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটির নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপসকে মেয়র ঘোষণা করা হয়। গেলো ২৭ মার্চ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২০২০ সালের নির্বাচনে ফজলে নূর তাপসকে বিজয়ী ঘোষণার ফল বাতিল করে বিএনপি নেতা ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করেন ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম। ট্রাইব্যুনালের রায়ের কপি পেয়ে ২২ এপ্রিল গেজেট প্রকাশের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরে ২৭ এপ্রিল ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নতুন মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে ইসি। এদিকে, ইশরাকের পক্ষে রায়ের খবরে আনন্দে ভাসেন যমুনার সামনে আন্দোলনরত নেতাকর্মীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় এই খবর পৌঁছলে উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেন তারা। চারদিক থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে উৎসবে শামিল হন হাজারও সমর্থক। এ সময় তারা স্লোগান দেন ‘এইমাত্র খবর এলো, ইশরাক হোসেন মেয়র হলো’; ‘আসিফ মাহমুদের চামড়া, তুলে নেবো আমরা’; ‘এক দুই তিন চার, আসিফ মাহমুদ স্বৈরাচার’। বৃষ্টিতে ভিজে স্লোগানের মধ্যেই খবর আসে রিট খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। এর আগে, আদালতের রায় অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র ঘোষণার দাবিতে গত বুধবার সন্ধ্যা থেকেই ইশরাক সমর্থকরা যমুনার সামনে অবস্থান নেন। রাতেও সেখানে ছিলেন। এতে যোগ দিয়ে ইশরাক ঘোষণা দিয়েছিলেন দাবি না আদায় হওয়া পর্যন্ত যমুনা ছাড়বেন না। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দ্বিতীয় দিনের মতো যমুনার সামনে রয়েছেন তারা। বৃষ্টিতেও মাঠ ছাড়েননি। ইশরাককে মেয়র ঘোষণার জন্য গত এক সপ্তাহ ধরে নগর ভবন ও হাইকোর্ট এলাকাসহ বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছিলেন তার সমর্থকরা। গত বুধবারও দিনভর মৎস্য ভবন মোড়ে অবস্থান নেন তারা। সন্ধ্যার পর কয়েক হাজার নেতাকর্মী যমুনার সামনে বিক্ষোভ মিছিলে শামিল হন। তাদের সাথে রয়েছেন ইশরাক। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত যমুনা ছাড়বেন না তার সমর্থকরা। গত ২৭ মার্চ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২০২০ সালের নির্বাচনে ফজলে নূর তাপসকে বিজয়ী ঘোষণার ফল বাতিল করে বিএনপি নেতা ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করেন ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম। ট্রাইব্যুনালের রায়ের অনুলিপি পেয়ে গত ২২ এপ্রিল গেজেট প্রকাশের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ চায় সাংবিধানিক সংস্থাটি। এরপর ২৭ এপ্রিল ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নতুন মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।