শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার একটি হোটেলে ‘অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের আইন কর্মকর্তাদের প্রসিকিউটরিয়াল নৈতিকতার নীতি ও অনুশীলন জোরদারকরণ’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আদালতের কার্যক্রম নস্যাৎ করা, কারসাজি করা অথবা দুর্নীতির উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রের মামলা পরিচালনাকে কোনোভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা বরদাশত করা হবে না।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমাদের ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশের গরিব মানুষের টাকা বিদেশে পাচার করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে আমাদের কর্মকর্তাদের যোগসাজশ বা আদালতে তাঁদের দুর্বলতার ক্ষেত্রেও ওয়াকিবহাল আছি। আমরা মনে করি, দেশের মানুষের অর্থ বিদেশে পাচারের সঙ্গে যারা জড়িত, এক্ষেত্রে আমাদের অফিস বা সুপ্রিম কোর্টের কোনো শৈথিল্য যদি থেকে থাকে, আমরা শক্তভাবে অ্যাড্রেস করব।’
অতীতে ‘নোট বাণিজ্যের’ অভিযোগ ছিল উল্লেখ করে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘এই অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস সম্পর্কে অনেক অভিযোগ ছিল নোট বাণিজ্যের। দায়িত্ব গ্রহণের পর, বিশেষ করে ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে নতুন আইন কর্মকর্তাদের আগমনের মাধ্যমে আমি মনে করি, এই অভিযোগ থেকে আমরা অনেকাংশেই মুক্তি লাভ করেছি।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের সুবিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে তথাকথিত নোট বাণিজ্য, সেকশনে দুর্নীতি বা যেকোনো ধরনের সিন্ডিকেট করে আদালতের আদেশ কিংবা রায়কে প্রভাবিত করা এবং আমাদের আইন কর্মকর্তাদের নানাভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।’
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব কেবল মামলা পরিচালনা বা জয়লাভের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আদালতকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করাই তাঁদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
কর্মশালায় প্রশিক্ষক ও বিশেষজ্ঞ প্যানেলে রয়েছেন বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন, থাইল্যান্ডের প্রসিকিউটর ওয়ারানথর্ন ওয়ানিচথাওয়ার্ন এবং মালদ্বীপের প্রসিকিউটর মারিয়াম সিমহা মুস্তফা রাশিদ।