ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর ও সিল জাল করে একটি মাদ্রাসার প্রস্তাবিত এডহক কমিটি অনুমোদনের চেষ্টা করার অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন তাহফিজুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডক্টর মোহা. নিয়ামতুল্লাহ (৫০) এবং মাদ্রাসার উপপরিচালক (প্রশাসন) সৈয়দ সানজিদ (৪৫)। গতকাল বুধবার সকালে আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত মঙ্গলবার ভোরে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় মামলা হয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকায় অবস্থিত তাহফিজুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদ্রাসার প্রস্তাবিত এডহক কমিটি অনুমোদনের জন্য মাদ্রাসার নিজস্ব প্যাডে একটি আবেদন তৈরি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই আবেদনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সিল এবং রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর জাল করা হয়। পরে জাল স্বাক্ষর ও সিলযুক্ত আবেদনটি আসল দলিল হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়। এজাহারে বলা হয়েছে, জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি আবেদন ও কমিটির তালিকাটি ঢাকার বছিলায় অবস্থিত ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। বিষয়টি রাষ্ট্রপতির নজরে আসার পর তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং আবেদনে থাকা স্বাক্ষর তার নয় বলে জানান। পরে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসারের (পিএলও) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এসপি ও ডিআইজি কার্যালয়কে বিষয়টি জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পাওয়ার পর আশুলিয়া থানার এসআই মেরাজুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়ামতুল্লাহ ও কথিত উপপরিচালক সৈয়দ সানজিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে কোনো একসময় মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কার্যালয়ে বসে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর ও সিল জাল করেন। মামলায় এজাহারভুক্ত পাঁচজনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন মাদ্রাসার পরিচালক সৈয়দ আলী রায়হান ওরফে রুন্নান, জামগড়ার গাজী লিটন ও বিপ্লব। আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।