পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এতে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কমিটিতে স্থান পেয়ে এক পক্ষ মোটরসাইকেল শোডাউন নিয়ে আনন্দ মিছিল করেছে। অন্যদিকে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ মিছিল করছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দুমকি উপজেলা যুবদলের আংশিক কমিটিতে জাকির আলম মিলনকে সভাপতি ও জাহিদুল ইসলাম রুবেলকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। এছাড়া আরও চারজনকে বিভিন্ন পদ দেওয়া হয়েছে।
যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন (এমপি) ওই কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এরপরই তাৎক্ষণিক উপজেলার নতুন বাজার আল-মামুন সুপার মার্কেটের সামনে থেকে পদবঞ্চিতদের একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী অনেকের হাতে ঝাড়ু দেখা যায়। বিক্ষুব্ধরা নবগঠিত কমিটি বাতিল করে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের দাবি জানান।
একই সময় পায়রা সেতুর টোল প্লাজা পাগলার মোড় এলাকা থেকে মোটরসাইকেল শোডাউন নিয়ে নবগঠিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে দুমকি উপজেলা শহরে রওনা দিলে পুলিশ পথিমধ্যে তাদের আটকে দেয়। নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন দুমকি থানার ওসি। পরে পুলিশের অনুরোধে সেখান থেকে ফিরে ইউনিভার্সিটি স্কয়ার (পাগলার মোড়) এলাকায় তারা আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেন।
যুবদলের দুগ্রুপের এই পালটাপালটি অবস্থানের কারণে উপজেলাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থমথমে পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া উপজেলা যুবদলের সদ্য সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম সরদার অভিযোগ করেন বলেন, যেখানে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান অবস্থিত সেরকম একটি উপজেলায় যুবদলের কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে দুজন ব্যবসায়ীকে। সভাপতির মতো একইভাবে জাহিদুল ইসলাম রুবেল নামে একজনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে থাকা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করে ব্যবসায়ীদের ধরে এনে যদি যুবদলের নেতা বানানো হয়, তাহলে ত্যাগীদের কী হবে?
একই ধরনের অভিযোগ করে উপজেলা যুবদলের সদ্য সাবেক আহ্বায়ক জসীম উদ্দিন হাওলাদার বলেন, জাকির আলম মিলন নামে একজন ব্যবসায়ীকে সভাপতি পদ দেওয়া হয়েছে। তিনি যুবদল করলেও ব্যবসার কারণে ১২ মাসই ঢাকায় অবস্থান করেন।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা যুবদলের নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রুবেল বলেন, তার বাবা মৃত ইউনুচ আলী হাওলাদার ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত দুমকি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনিও বাবার সঙ্গে শৈশব থেকেই বিএনপির সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে যুক্ত থেকে তৃণমূলে বিএনপির রাজনীতি করেছেন। মূলত পদবঞ্চিত ব্যক্তিরা ক্ষুব্ধ হয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছেন। এসব অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।
উপজেলা যুবদলের নতুন কমিটির সভাপতি জাকির আলম মিলন বলেন, ব্যবসায়ীরা রাজনীতি করতে পারবেন না বলে দলে কোনো নিয়ম নেই। তাছাড়া আমি সদ্য সাবেক কমিটির ৫নং যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলাম। যারা আজ কমিটিকে কেন্দ্র করে বিতর্ক ছড়াচ্ছেন, বিগত দিনগুলোতে তাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজনীতির মাঠে ছিলাম। এখন তারা যদি শুধু নিজেদেরকেই নেতা বা কর্মী মনে করেন, তাহলে আমার কী করার আছে?
দুমকি থানার ওসি মো. সেলিম উদ্দিন এলাকায় উত্তেজনা বিরাজের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং টহল কার্যক্রম চলমান আছে।