হরমুজ ইস্যুতে আবার উত্তেজনা, মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা হামলার দাবি ইরানের
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এদিকে ওয়াশিংটন বলছে, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার প্রতিক্রিয়াতেই তারা ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এএফপি ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত আইআরজিসির এক টেলিগ্রাম বার্তায় বলা হয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে সতর্ক করে তারা বলেছে, “এই আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি হলে আমাদের প্রতিক্রিয়া আরও ব্যাপক হবে।”
আল জাজিরা জানায়, বৃহস্পতিবার ওমান উপকূলের কাছে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এভার লাভলি ড্রোন হামলার শিকার হওয়ার পর পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্র ওই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে। এর জবাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযানের উদ্দেশ্য বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু করা নয়, বরং এটিকে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে পরিচালনা করা হয়েছে। প্রায় ৯০ মিনিটের ওই অভিযানে হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন কয়েকটি ইরানি সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, মার্কিন হামলার পর তাদের বাহিনী ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হেনেছে। তবে এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ওয়াশিংটন।
গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এভার লাভলি জাহাজে হামলাকে ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের “বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন”বলে মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষায়, “তাদের এমনটি করা উচিত নয়। এর পরিণতি কী হয়, তা আপনারা দেখতে পাবেন।”
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “সহিংসতার জবাব সহিংসতাতেই দেওয়া হবে।” একই সঙ্গে তিনি জানান, সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত।
আইআরজিসি অবশ্য পাল্টা অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রই সমঝোতার শর্ত ভঙ্গ করেছে। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে সমঝোতার প্রতিশ্রুতি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে ওয়াশিংটন। তাই তারা পাল্টা জবাব দিতে বাধ্য হয়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ওই সমঝোতায় লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধের ভিত্তি তৈরি হলেও সেটি কোনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি ছিল না। বরং ভবিষ্যৎ আলোচনার একটি প্রাথমিক কাঠামো হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে এই পাল্টাপাল্টি হামলা শুধু দুই দেশের সম্পর্ককেই আরও জটিল করে তুলছে না, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: এএফপি, আল জাজিরা।