ভোটের লড়াইয়ে অংশগ্রহণ, একের পর এক জয়, আর জাতীয় রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মুসলিম আমেরিকানদের জন্য এবারের ফলাফল নিয়ে এসেছে নতুন সম্ভাবনা। জাতীয়, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে অন্তত ৩৬টি আসনে জয় পেয়েছেন মুসলিম প্রার্থীরা। তাদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, আবদুল আল-সায়েদের হাত ধরে যুক্তরাষ্ট্র পেল ইতিহাসের প্রথম মুসলিম সিনেটর। গৎ মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মুসলিম আমেরিকান প্রার্থীরা। কংগ্রেস থেকে অঙ্গরাজ্যের আইনসভা, এমনকি স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সাফল্য পেয়েছেন তারা। মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সায়েদ। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হয়েছেন তিনি। নিউ জার্সির ১২তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয় পেয়েছেন আদম হামাওয়ি। তিনি অঙ্গরাজ্যটি থেকে কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম। নিউইয়র্কের ১৩তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয় পেয়েছেন দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের। প্রতিনিধি পরিষদের মুসলিম সদস্য ইলহান ওমর, রাশিদা তালাইব, আন্দ্রে কারসন ও লতিফা সিমন নিজেদের আসন ধরে রেখেছেন। এদিকে, জর্জিয়ায় স্টেট সিনেটের ৭ নম্বর ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয় পেয়েছেন রুয়া রোমান। তিনি অঙ্গরাজ্যটির সিনেটে নির্বাচিত প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। ইলিনয়ে নাবিলা সাইয়েদ ও আবদেলনাসের রসিদ, কানেকটিকাটে মরিয়ম খান ও সৌদ আনোয়ার এবং মিনেসোটায় ওমর ফাতেহ ও জয়নব মোহাম্মদ জয় পেয়েছেন। এছাড়া নিউইয়র্ক, ওহাইও, ওরেগন, নর্থ ক্যারোলাইনা, পেনসিলভানিয়া ও টেক্সাসের আইনসভা নির্বাচনেও মুসলিম প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সাফল্য পেয়েছেন মুসলিম প্রার্থীরা। টেক্সাসের হ্যারিস কাউন্টির বিচারক নির্বাচিত হয়েছেন লেটিসিয়া প্লামার। এর মধ্য দিয়ে তিনি অঙ্গরাজ্যটির সবচেয়ে বড় কাউন্টির নেতৃত্ব দেওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ও প্রথম মুসলিম ব্যক্তি হয়েছেন। কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) ও তাদের সহযোগী সংগঠন সিএআইআর অ্যাকশন জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পদে ১৬০ জনের বেশি মুসলিম আমেরিকান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। একটি জাতীয় নির্বাচনি জরিপে দেখা গেছে, গাঁজা ও ইরানের যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ এবং বাড়তে থাকা মুসলিমবিদ্বেষ মুসলিম ভোটারদের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সূত্র: ডন