জানা নিউজ

যশোরের দুটি আসনে জামায়াত প্রার্থীসহ ৫ জনের প্রার্থিতা বাতিল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডাক্তার মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে গেছে। এছাড়া এই আসনে আরো পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে ত্রুটি রয়েছে। একই আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মো. ইসহক ও জহুরুল ইসলাম এবং মেহেদী হাসানের। অন্যদিকে, যশোর-১ আসনে দলীয় মনোনয়ন না থাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তির মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার। যশোর-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান জহির এবং শাহজাহানন গোলদারের প্রার্থিতা পেন্ডিং রাখা হয়েছে। এই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মফিকুল হাসান তৃপ্তির দলীয় মনোনয়ন না থাকায় তা বাতিল করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার যশোর জেলার রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ের সময় এই তথ্য জানা গেছে। জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক আশেক হাসান জানিয়েছেন, ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত জটিলতায় ব্যাংক ক্লিয়ারেন্স না থাকায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। রিটার্নিং অফিস জানিয়েছে, মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের সিআইবি রিপোর্টে ২০ বছর আগের একটি ক্রেডিট কার্ডে বকেয়া দেখানো হয়েছে। যদিও তিনি বকেয়া পরিশোধের প্রমাণপত্র দাখিল করেছেন, তবে তা যথাসময়ে পরিশোধ না করায় এই বিপত্তি ঘটেছে। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ এই বিষয়ে নির্বাচনী আপিল আদালতে আবেদনের সুযোগ পাবেন। বকেয়া ঋণ পরিশোধ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস রিটার্নিং অফিসে জমা দিলে তা ফের যাচাই করা হবে। এক্ষেত্রে তার প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ ইসহকের দলীয় মনোনয়ন না থাকায় তার প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। এছাড়া এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসান এবং সাক্ষরে গড়মিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী জহুরুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এই আসনের বিএনএফ প্রার্থী শাসছুল হকের মনোনয়ন পেন্ডিং রাখা হয়েছে। অগ্রণী ব্যাংকের আপত্তি থাকায় জাপা ফিরোজ শাহ’র মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে, যশোর-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটনের প্রার্থিতা পেন্ডিং রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার কোনো তথ্য নেই। এছাড়া, নির্ভরশীল ব্যক্তির (স্ত্রী) দেওয়া তথ্য গরমিল রয়েছে। এগুলি সংশোধন করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফের জমা দিলে তার প্রার্থিতা চূড়ান্ত বলে গণ্য করা হবে জেলা প্রশাসক আশেক হাসান জানিয়েছেন। এই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান জহির ও শাজাহান গোলদারের মনোনয়নপত্রের সাথে এক ভাগ ভোটারের সমর্থনকৃত কাগজ নেই। এই কারণে তাদের প্রার্থিতা পেন্ডিং রাখা হয়েছে। তাদের সংশোধনের জন্য ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে বলে রিটার্নিং অফিসের কার্যালয় থেকে জানা গেছে। জেলা প্রশাসক আশেক হাসান জানিয়েছেন, যে সমস্ত ত্রুটি দেখিয়ে প্রার্থীদের প্রার্থিতা বাতিল বা পেন্ডিং রাখা হয়েছে সেগুলো সংশোধনের জন্য সময় রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রার্থীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে তারা প্রার্থিতা ফিরে পাবেন। এর জন্য ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।