শিশুদের কল্যাণে মেসির এই উদ্যোগ তার দীর্ঘদিনের দাতব্য কার্যক্রমেরই অংশ। ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত লিও মেসি ফাউন্ডেশন মূলত সুবিধাবঞ্চিত পরিস্থিতিতে থাকা শিশু ও কিশোরদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করে আসছে।
শিশুদের কল্যাণে জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত মেসি। ২০১০ সালে ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হওয়ার পর থেকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিশুসুরক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগে সমর্থন দিয়ে আসছেন তিনি।
২০১২ সালে কলম্বিয়ায় ‘স্পোর্টস ফর পিস’ কর্মসূচিতে অর্থায়ন করে লিও মেসি ফাউন্ডেশন। সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তরুণদের সহায়তায় খেলাধুলাকে কাজে লাগানো ছিল কর্মসূচিটির লক্ষ্য। এর পাঁচ বছর পর সিরিয়ায় ২০টি প্রিফ্যাব্রিকেটেড শ্রেণিকক্ষ নির্মাণেও অর্থায়ন করে সংস্থাটি। এর ফলে সংঘাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার ৬০০-এর বেশি শিশুর আবারও স্কুলে ফেরার সুযোগ তৈরি হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পরও শিশুদের জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন মেসি। ২০২৫ সালে ইন্টার মায়ামি সিএফ ফাউন্ডেশন ও ইউনিসেফ তিন বছর মেয়াদি একটি অংশীদারত্ব শুরু করে। এর আওতায় আর্জেন্টিনা, এল সালভাদর, হাইতি, হন্ডুরাস ও মেক্সিকোর শিশুদের জন্য শিক্ষা কার্যক্রমে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
এই উদ্যোগে অর্থ সংগ্রহের জন্য ব্যতিক্রমী একটি প্রকল্পেও যুক্ত হন মেসি। ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে তার করা হেডে গোলটিকে ক্যারিয়ারের প্রিয় গোল হিসেবে বেছে নেন তিনি। এরপর শিল্পী রেফিক আনাদোলের সঙ্গে মিলে গোলটিকে কেন্দ্র করে ‘আ গোল ইন লাইফ’ নামে একটি ডিজিটাল শিল্পকর্ম তৈরি করেন।
পরে ক্রিস্টিসের নিলামে শিল্পকর্মটি ১৮ লাখ ৭০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়। এর অর্থ যায় কয়েকটি অলাভজনক সংস্থার কার্যক্রমে, যার মধ্যে ইন্টার মায়ামি ও ইউনিসেফের অংশীদারত্বের সঙ্গে যুক্ত উদ্যোগও রয়েছে।
ফুটবলের বাইরে আতিথেয়তা, আবাসন, খাদ্যসেবা ও অন্যান্য ব্যবসায়ও যুক্ত হয়েছেন মেসি। তবে বার্সেলোনার শিশুদের ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্রটি তার উত্তরাধিকারের ভিন্ন এক দিক তুলে ধরে। এটি এককালীন কোনো অনুদান নয়; বরং স্থাপত্য পরিকল্পনা থেকে তহবিল সংগ্রহ, এরপর বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র চালু করা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে এগিয়ে নেওয়া একটি প্রকল্প।
বার্সেলোনায় মেসির খেলার দিন শেষ হলেও শিশু, তাদের পরিবার এবং ক্যানসারের কঠিন লড়াইকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই কেন্দ্র রেখে গেছে স্থায়ী অবদান।