জানা নিউজ

মুনাফার এক-তৃতীয়াংশ দেশের জনগণের কল্যাণে ব্যয় করবে ড্যাফোডিল গ্রুপ

কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতায় বাংলাদেশের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়েছে ড্যাফোডিল গ্রুপ। ২০২৬ সাল থেকে গ্রুপটির সব কনসার্নের নিট মুনাফার এক-তৃতীয়াংশ দেশের জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। কর্পোরেট নেতৃত্বে মানবিকতা ও দায়িত্বশীলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে এই ঘোষণাকে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) রাজধানীর সাভারে অবস্থিত ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটিতে অনুষ্ঠিত ড্যাফোডিল ফ্যামিলি ডে অনুষ্ঠানে এ ঐতিহাসিক অঙ্গীকার ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে ড্যাফোডিল গ্রুপের বিভিন্ন কনসার্নের নেতৃত্বসহ ছয় হাজার ৫শর বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তির মাধ্যমে ‘One-Third Social Commitment’ প্রকাশ্যে কার্যকর করা হয়।ফ্যামিলি ডে অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জাতীয় শোক দিবসের শেষ দিনে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং তার রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ সবুর খান বলেন, ২০২৬ সাল থেকে ড্যাফোডিল গ্রুপের সব কনসার্নের নেট প্রফিটের এক-তৃতীয়াংশ জনগণের কল্যাণে উৎসর্গ করা হবে।
এটি কেবল দান নয়, এটি একটি Nation Building Investment। তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ কর্পোরেট সামাজিক দায়িত্বের গণ্ডি ছাড়িয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতি-গঠনের অঙ্গীকার। শিক্ষা ও স্কলারশিপ, যুব নেতৃত্ব উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা এবং সুবিধাবঞ্চিত ও সম্ভাবনাময় তরুণদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে এই তহবিল বিনিয়োগ করা হবে। ড. সবুর খান বলেন, যখন একটি প্রতিষ্ঠানের আয়ের এক-তৃতীয়াংশ জনগণের জন্য ব্যয় হয়, তখন সেই প্রতিষ্ঠান আর শুধু মালিক বা কর্মীদের নয়, পুরো দেশের হয়ে যায়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০০০ সাল থেকে ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশন যে জেলা-ভিত্তিক উন্নয়ন মডেলে কাজ করে আসছিল, ২০২৬ সাল থেকে তা সারা বাংলাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি প্রান্তের প্রতিশ্রুতিশীল তরুণদের সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ড্যাফোডিল গ্রুপ। ফ্যামিলি ডে উপলক্ষে দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মাননা দেওয়া হয়। ২০ বছরের বেশি সময় ধরে কর্মরত ৭৯ জন এবং ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে কর্মরত ১৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। ড্যাফোডিল গ্রুপ মনে করে, নিবেদিতপ্রাণ মানবসম্পদই টেকসই সাফল্যের মূল ভিত্তি।এ সময় ড্যাফোডিল গ্রুপের সিইও ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান স্পষ্ট করে জানান, নিট মুনাফার এক-তৃতীয়াংশ জনকল্যাণে ব্যয় করার সিদ্ধান্তে কোনো পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বা সুযোগ-সুবিধার ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। ড্যাফোডিল গ্রুপের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারবে যে তাদের শ্রম সরাসরি দেশের কল্যাণে অবদান রাখছে। প্রতিষ্ঠানটি কেবল একটি কর্পোরেট গ্রুপ নয়, বরং জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতির অংশীদার হিসেবে ‘জাতির সম্পদে’ পরিণত হবে।