জানা নিউজ

মন্ত্রীসভার সদস্য কারা হচ্ছেন, চলছে গুন্জন

সংখ্যাটা ২০ থেকে ২২ জনের মধ্যে রাখতে চায় বিএনপি

সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন, আর এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় নতুন মন্ত্রিসভা। কারা থাকছেন, কত বড় হচ্ছে মন্ত্রিসভা, শরিকরা কতটা জায়গা পাচ্ছেন, এসব প্রশ্নেই সরগরম দলীয় অন্দরমহল।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি জোট বড় ব্যবধানে জয় পায়। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করেছে। সংবিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের পর নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ এবং এরপর সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার গুলশানে দলের কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যা নতুন সরকারের প্রস্তুতির ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন নেতাকর্মীরা।
দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, এবার ছোট আকারের কিন্তু কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক মন্ত্রিসভা গঠনের চিন্তা রয়েছে। সংখ্যাটা ২০ থেকে ২২ জনের মধ্যে রাখতে চায় বিএনপি। পাশাপাশি দুই থেকে তিনজন টেকনোক্র্যাটও থাকতে পারেন। অভিজ্ঞদের সঙ্গে ১০ থেকে ১৫ জন তরুণ মুখকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। পুরো দেশ ও বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর অবসরপ্রাপ্ত হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের নাম আলোচনায় রয়েছে। কেউ কেউ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন, আবার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি করার আলোচনাও শোনা যাচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রে ড. রেজা কিবরিয়ার নাম জোরালোভাবে ঘুরছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জনপ্রশাসন ও স্থানীয় সরকারসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় নিয়েও চলছে আলোচনা। নজরুল ইসলাম খানকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করার পরামর্শও আছে দলীয় ভেতরে। যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোকেও জায়গা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল বিএনপির। সেই হিসেবে আন্দালিভ রহমান পার্থ, ববি হাজ্জাজ, জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নুরের নাম আলোচনায় রয়েছে। টেকনোক্র্যাট কোটায় রুহুল কবির রিজভী, হুমায়ুন কবিরসহ কয়েকজন বিশেষজ্ঞের সম্ভাবনার কথাও বলছেন নেতারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, “মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। কে কোন মন্ত্রণালয় পাবেন, তা নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে ভাবনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চেয়ারম্যানই নেবেন।” স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, “নির্বাচনে যেমন নবীন ও প্রবীণের সমন্বয় ছিল, মন্ত্রিসভাতেও সেই কম্বিনেশনই দেখা যাবে। যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাই হবে মূল বিবেচ্য।”
কক্সবাজার ১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদও বলেন, “কেমন মন্ত্রিসভা হতে যাচ্ছে, তা দেখতে দেশবাসীকে আর অল্প কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।”এদিকে নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ২৯৭টি আসনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। দুটি আসনের ফল স্থগিত রয়েছে। নতুন সংসদ ও সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা এখন সময়ের ব্যাপার। সব মিলিয়ে দেশ তাকিয়ে আছে তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া মন্ত্রিসভার দিকে। অভিজ্ঞতা, তারুণ্য, শরিকদের অংশীদারত্ব ও টেকনোক্র্যাটদের সংযোজন, কোন ভারসাম্যে শেষ পর্যন্ত দল চমক দেখায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।