চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত সাতজন বাংলাদেশির প্রাণহানির তথ্য জানিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিহত প্রবাসী শাহ আলম ভূঁইয়ার মরদেহ গ্রহণের সময় এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সাতজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। একজনকে ঘটনাস্থলেই দাফন করা হয়েছে, আরেকজনের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি শাহ আলমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
এই পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার শুরু থেকেই কাজ করছে বলে জানান শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং বিদেশে থাকা বাংলাদেশ মিশনগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। যারা দেশে ফিরতে চান, তাদের ফিরিয়ে আনতেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শাহ আলম ভূঁইয়া বৈধ কর্মী হওয়ায় তার পরিবারকে সরকার থেকে ৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। তবে ইনস্যুরেন্স না থাকায় অতিরিক্ত ১০ লাখ টাকার সুবিধা তারা পাবেন না। জাতিসংঘের সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া শেষে এই সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়া তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে মরদেহ পরিবহন ও দাফনের জন্য ৩৫ হাজার টাকা এবং বিশেষ অনুদান হিসেবে ৫০০ ডলার সমমূল্যের অর্থ ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার শুধু মরদেহ দেশে আনা নয়, বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা, প্রয়োজন হলে দেশে প্রত্যাবর্তন এবং পুনর্বাসন নিয়েও কাজ করছে। একইসঙ্গে যুদ্ধের কারণে দেশে ফিরে আসা প্রবাসীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
এ সময় তিনি যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশ চায় এই যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ হোক এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সংকটের সমাধান হোক।”