ভারতে রাস্তার মাঝে নামাজ আদায় করায় এক মুসল্লিকে আটক করেছে পুলিশ। মূলত দেশটির উত্তর প্রদেশ রাজ্যের ব্যস্ত সড়কের মাঝখানে নামাজ পড়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ তাকে আটক করে। এই ঘটনাটি ঘিরে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড ও জনশৃঙ্খলা- দুটি বিষয়ই নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, ভারতের উত্তর প্রদেশের রামপুরে একটি ব্যস্ত সড়কের মাঝখানে নামাজ আদায়ের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। সিভিল লাইনস থানার আওতাধীন এলাকা শাহাবাদ গেট মোড়ে এই ঘটনাটি ঘটে। ভিডিওতে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি সড়কের মাঝখানে নামাজ পড়ছেন, এতে যানবাহনের গতি কমে যায় এবং আশপাশে লোকজন জড়ো হন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি আমলে নিয়ে জনসমাগমস্থলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার অভিযোগে তাকে আটক করে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনুরাগ সিং বলেন, ‘সিভিল লাইনস এলাকার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি সড়কের মাঝখানে নামাজ পড়ছেন। এর ভিত্তিতে থানায় মামলা করা হয়েছে। তাকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে এবং জেলে পাঠানো হচ্ছে।’ অবশ্য আটককৃত ওই ব্যক্তির পরিবার দাবি করেছে, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ। পুলিশ জানিয়েছে, এই দাবি তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে। ভিডিওতে দেখা যায়, নামাজ চলাকালে মোড়ে অনেক মানুষ জড়ো হয়, যার ফলে সাময়িকভাবে স্বাভাবিক যান চলাচলে প্রভাব পড়ে। উত্তর প্রদেশে জনসাধারণের চলাচলের সড়কে ধর্মীয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষের চলমান উদ্যোগের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে অনুমতি ছাড়া জনসাধারণের জায়গায় নামাজ বা অন্য ধর্মীয় কার্যক্রম না করার বিষয়ে প্রশাসন বারবার সতর্ক করে আসছে। তবে আদালত জনসমাগমস্থল ও ব্যক্তিগত জায়গার মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করেছে। এলাহাবাদ হাইকোর্ট সাম্প্রতিক রায়ে জানিয়েছে, সড়কে নামাজ পড়লে পুলিশি ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত স্থানে নামাজ আদায়ে সরকারি অনুমতির প্রয়োজন নেই এবং এটি ধর্মীয় স্বাধীনতার আওতায় সুরক্ষিত। রায়ে আরও বলা হয়, ধর্মীয় কার্যক্রম যদি জনসাধারণের সড়কে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে কর্তৃপক্ষ হস্তক্ষেপ করতে পারে। তবে ব্যক্তিগত স্থানে শান্তিপূর্ণ ইবাদতে বাধা দেয়া যাবে না।