মস্তিষ্কে টিউমার শনাক্ত হওয়ার পর দীর্ঘ প্রায় নয় মাস অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। ঢাকায় ও ভারতের চেন্নাইয়ে দুই দফা অস্ত্রোপচার, চিকিৎসা ও বিশ্রামের পর আবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন তিনি। ইকসান রনির গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় ‘অংশীদার’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে কাজে ফিরেছেন এই অভিনেত্রী। নাটকটির শুটিং ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।
অভিনয়ে ফেরার খবর জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাটকটির শুটিংয়ের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছেন নির্মাতা ইকসান রনি। ছবির সঙ্গে তানিয়া বৃষ্টিকে স্বাগত জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘ওয়েলকাম ব্যাক তানিয়া বৃষ্টি’। নাটকটিতে তানিয়ার পাশাপাশি অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, ডলি জহুর, নন্দী জুয়েল, আর সি অরণ্য, আশরাফুল আশীষ ও পংকজ মজুমদারসহ আরও অনেকে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তানিয়া বৃষ্টি। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর মস্তিষ্কে টিউমার শনাক্ত হয়। প্রথমে ঢাকায় অস্ত্রোপচার করে টিউমার অপসারণ করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে যান তিনি। সেখানে দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা ও বিশ্রামের কারণে অভিনয় থেকে বিরতি নিতে হয় তাঁকে।
অক্টোবরের শুরুতে ফেসবুক লাইভে এসে নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়েছিলেন তানিয়া। তখন তিনি বলেছিলেন, আগের চেয়ে অনেকটা সুস্থ বোধ করছেন এবং চলতি মাসেই কাজে ফিরতে চান। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ‘অংশীদার’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে ফিরলেন তিনি।
দীর্ঘ বিরতির পর কাজে ফেরার অনুভূতি জানিয়ে তানিয়া বলেন, ‘মিডিয়ার শিল্পী, সহশিল্পী ও কলাকুশলীরা আমার একটা পরিবার, আমার জীবনের অংশ। পুরোটা সময় এই পরিবারকে মিস করেছি। আল্লাহর প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা যে আবার কাজে ফিরতে পেরেছি।’
নিজের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখন আগের চেয়ে ভালো আছি। আল্লাহ যেন পুরোপুরি সুস্থ করে দেন, সবার কাছে এই দোয়া চাই।’ অসুস্থতার সময় যাঁরা পাশে ছিলেন, তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। দর্শকদের ভালোবাসা ও উৎসাহ তাঁকে কাজে ফেরার সাহস জুগিয়েছে বলে জানান এই অভিনেত্রী। তাঁর ভাষায়, অনেক দর্শকই চেয়েছেন তিনি আবার অভিনয়ে ফিরুন। তাঁদের অনুপ্রেরণাও এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে কাজ করেছে।
‘অংশীদার’ নাটকের গল্প আবর্তিত হয়েছে বাবার মৃত্যুর পর দুই বোনের পৈতৃক সম্পত্তির অধিকার নিয়ে পারিবারিক টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে। চাচা ও তাঁর পরিবারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন বড় বোন। নাটকে সেই বড় বোনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তানিয়া বৃষ্টি।
নাটকটির গল্প প্রসঙ্গে তানিয়া বলেন, সমাজে এখনো এমন অনেক পরিবার রয়েছে, যেখানে শুধু কন্যাসন্তান থাকার কারণে মেয়েদের নানা সামাজিক ও পারিবারিক প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে বাবার মৃত্যুর পর পৈতৃক সম্পত্তিতে মেয়েদের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা দেখা যায়। ‘অংশীদার’ নাটকে এই বাস্তবতার পাশাপাশি সমস্যার ইতিবাচক সমাধানের দিকও তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর আশা, গল্পটি দর্শকের ভালো লাগবে এবং সমাজের মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেবে।
নির্মাতা ইকসান রনি বলেন, ‘অংশীদার’ সমাজের পরিচিত একটি বাস্তবতার গল্প। এতে নারীর ন্যায্য অধিকার, আত্মমর্যাদা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে ওঠার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। অসুস্থতা কাটিয়ে তানিয়া আবার কাজে ফিরেছেন, এটি তাঁর কাছে আনন্দের। আগ্রহ ও আনন্দ নিয়েই অভিনেত্রী নাটকটিতে কাজ করেছেন বলেও জানান তিনি।
নাটকটির সংলাপ লিখেছেন ফারুক আহমেদ রানা ও নন্দী জুয়েল। নির্মাতা জানিয়েছেন, শিগগিরই নাটকটি কেএসআই এন্টারটেইনমেন্টের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি একটি টেলিভিশন চ্যানেলেও প্রচারের কথা রয়েছে।
অভিনয়ে ফেরার পরও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলছেন তানিয়া বৃষ্টি। অবসর সময়ে তাঁর বড় একটি অংশ কাটে ছয়টি পোষা বিড়ালের সঙ্গে। বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হলেও অনেক সময় বিড়ালগুলোকে সঙ্গে নেন তিনি।
দীর্ঘ চিকিৎসা ও বিরতির পর কাজে ফেরায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তাঁর সহকর্মী ও ভক্তরা। তবে নিয়মিত অভিনয়ে ফেরার বিষয়ে এখনই নিশ্চিত কিছু জানাননি তানিয়া। আপাতত সুস্থতার দিকে নজর রেখেই নতুন কাজ শুরু করেছেন এই অভিনেত্রী।
এর আগে ইকসান রনির পরিচালনায় ‘বাবাও মানুষ’ নাটকে অভিনয় করেছিলেন তানিয়া। নাটকটি দর্শকের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছিল বলে জানান তিনি। নতুন কাজেও পরিচালকের সঙ্গে আবার যুক্ত হতে পেরে সন্তুষ্ট অভিনেত্রী।
দীর্ঘ বিরতির সময় অভিনয়কে ভীষণভাবে মিস করেছেন তানিয়া। তাঁর কথায়, শারীরিক অবস্থা একসময় এমন ছিল যে আর অভিনয়ে ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে সহকর্মী, কলাকুশলী ও দর্শকদের ভালোবাসা তাঁকে সাহস জুগিয়েছে। সবার দোয়া ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি পূর্ণ সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
Next Post