২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন।
ইয়ামাল বলেন, ‘কারণ আমি তাকে বলেছিলাম যেন না দেয়। একবার সে ফেসবুকে ছবিটি দিয়েছিল, তখন আমি তাকে মুছে দিতে বলেছিলাম। তুলনা করাটা খুব সহজ ছিল, আর মানুষ শুধু সেটি নিয়েই কথা বলত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ইয়ামাল হতে চেয়েছিলাম, মেসি হতে চাইনি। আমি শুধু দেখতে চেয়েছিলাম, আমি কতদূর যেতে পারি। তাই বাবাকে অপেক্ষা করতে বলেছিলাম। আমি যখন ইয়ামাল হয়ে উঠব, তখন যা ইচ্ছা করো।’
বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়েও কথা বলেছেন ইয়ামাল, যিনি এবার ব্যালন ডি’অরের অন্যতম আলোচিত দাবিদার। এনসো ফার্নান্দেস লাল কার্ড দেখার পরই স্পেনের খেলোয়াড়েরা জয়ের ব্যাপারে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিলেন বলে জানান তিনি।
ইয়ামালের ভাষায়, ‘আমরা জানতাম, তাদের পক্ষে গোল করা অসম্ভব। আর ১০ জনের বিপক্ষে বল নিজেদের দখলে থাকলে আমাদের জন্য গোল না করাটাই কঠিন।’
মাঠে নিজের খেলার ধরন নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেছেন ইয়ামাল। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা যেন তাকে থামানোর জন্য পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা করতে না পারে, সেটিই তার লক্ষ্য।
‘একজন ফুলব্যাকের কোচ তাকে বলবে, “ঠিক আছে, ইয়ামাল, সে যা করে তা হলো…” আমি তাকে রোবট হিসেবে ভাবি, যে আমাকে থামানোর চেষ্টা করছে,’ বলেন ইয়ামাল।
‘রোবট প্রায় নিখুঁত হতে পারে, কিন্তু একজন মানুষের এমন কিছু থাকবে, যা রোবটের নেই। ফুটবল এখন অনেকটাই যান্ত্রিক হয়ে গেছে। কিন্তু আমার মতো, পেদ্রির মতো এবং আরও অনেক খেলোয়াড়ের মধ্যে সেই বিশেষ স্ফুলিঙ্গ আছে।’
নিজের খেলায় নেইমারের প্রভাবের কথাও জানিয়েছেন ইয়ামাল। তিনি বলেন, ‘নেইমারের একটি পরিচিত মুভ আছে, যেখানে সে থামে, ভান করে একদিকে যায়, তারপর অন্যদিকে চলে যায়। আমি তার অনেক ভিডিও দেখেছি। আমি প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলতে চেষ্টা করি, যাতে তারা আমাকে যান্ত্রিকভাবে আটকাতে না পারে এবং আমি কোথায় যাব, তা যেন তারা বুঝতে না পারে।’
বিশ্বকাপ ফাইনালের একমাত্র গোলটির ক্ষেত্রেও একই চিন্তাধারা কাজে লাগিয়েছিলেন বলে জানান ইয়ামাল। ম্যাচের ৬০, ৭০ ও ৮০ মিনিটের দিকে কয়েকবার প্রতিপক্ষের ফুলব্যাককে একা পেয়েছিলেন তিনি। প্রতিবারই তার দিকে এগিয়ে এসেছিলেন আলেক্সিস মাক আলিস্তার।
ইয়ামাল বলেন, ‘আমার যদি সত্যিই ফুলব্যাককে আক্রমণ করার ইচ্ছা থাকত, তাহলে আমি দ্রুত তার দিকে যেতাম। কিন্তু এবার আমি ধীরে বল নিয়ে এগিয়েছিলাম, যাতে মাক আলিস্তার আমার কাছে আসার সময় পায়, পেদ্রো পরো আমার পেছন দিয়ে উঠে আসতে পারে এবং আমি বলটা পেছনে খেলতে পারি।’
শেষ পর্যন্ত সেটিই ঘটে। পেদ্রো পরোর জন্য তৈরি হওয়া জায়গা দিয়ে ইয়ামাল বল বাড়িয়ে দেন। পরো ক্রস করেন বক্সে। নিকো উইলিয়ামস হেডে বল নামিয়ে দেন ফেরান তোরেসের জন্য। আর সেই বলেই গোল করে স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতান ফেরান।
‘আমরা জানতাম, ফেরানের গোলটা দরকার ছিল। আসলে বিশ্বকাপ ফাইনালে সবারই একটি গোল দরকার। উনাই সিমন গোল করলেও দারুণ হতো। যখন বল জালে ঢোকে, মুহূর্তটা অসাধারণ। তখন মনে হয়, আমরা চ্যাম্পিয়ন। সেই আবেগ ব্যাখ্যা করা যায় না,’ বলেন ইয়ামাল।
গোল হওয়ার পর অবশ্য সমতা ফেরার কোনো চিন্তা তার মাথায় আসেনি বলেও জানান তিনি। ‘আমি শুধু খেলে যেতে চেয়েছিলাম। একবারও ভাবিনি, তারা হয়তো সমতা ফেরাবে। সামান্য ধাক্কা হয়েছিল, একটি সুযোগ পেয়েছিল তারা, যেটি (পাউ) কুবারসি ক্লিয়ার করে দেয়। কিন্তু আমি তখন শুধু উপভোগ করছিলাম,’ বলেন স্পেনের এই তরুণ তারকা।