জানা নিউজ

বাস ভাড়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জের সংঘর্ষ, রণক্ষেত্র ভুরঘাটা

বাস ভাড়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে বরিশালের প্রবেশদ্বার গৌরনদী উপজেলার ভুরঘাটা বাস টার্মিনালে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় দুই পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলায় ভুরঘাটা বাস টার্মিনাল এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে গৌরনদী ও কালকিনি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে গত শুক্রবার দিবাগত রাত দশটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কালকিনির ডাসার উপজেলার বনগ্রাম এলাকার এক বাসযাত্রীর সাথে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভুরঘাটা বাস টার্মিনালে বাস ভাড়া নিয়ে কাউন্টার মাস্টারের সাথে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার জের ধরে গত শুক্রবার রাত সাতটার দিকে বনগ্রাম এলাকা থেকে কয়েকশ’ মানুষ পরিকল্পিতভাবে ভুরঘাটা বাস টার্মিনাল এলাকায় উপস্থিত মানুষের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও তুমুল সংঘর্ষ হয়। ভুরঘাটা বাস টার্মিনাল এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, সংঘর্ষ চলাকালীন বিপুলসংখ্যক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এতে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে প্রায় দেড় ঘণ্টা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকায় ব্যস্ততম মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। ব্যবসায়ীরা আরও জানিয়েছেন, খবর পেয়ে গৌরনদী ও কালকিনি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে রাত দশটার দিকে পুরোপুরি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সংঘর্ষে লিপ্ত দুই পক্ষই ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। গৌরনদী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভুরঘাটা এলাকার বাসিন্দা কাওছার তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, বৃহস্পতিবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে বনগ্রাম এলাকার বাসিন্দা মোফাজ্জেল সরদার, বায়জিদ সরদার, হাবুল ঘরামী, দেলোয়ার সরদার, এমারাত সরদারের নেতৃত্বে কয়েকশ’ জনের একটি সশস্ত্র দল ভুরঘাটা বাস টার্মিনাল এলাকায় কমপক্ষে ২০-২৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হামলা চালিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটপাট শুরু করে। তারা (হামলাকারী) ভুরঘাটা বাসস্ট্যান্ডের কমপক্ষে ১৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় তাদের হামলায় স্থানীয় প্রায় ১৫ জন বাসিন্দা আহত হয়েছে। এর মধ্যে গুরুতর আহতদের উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বনগ্রাম এলাকার বাসিন্দা মোফাজ্জেল সরদার বলেন, আমরা কয়েকজনে ভুরঘাটা বাস টার্মিনালের কাউন্টারে গিয়ে বৃহস্পতিবারের হামলার বিষয়ে জানতে চাওয়ার সাথে সাথেই আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি আরও বলেন, এ খবর মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে আমাদের কিছু লোক ভুরঘাটা বাস টার্মিনালে আসে। এ সময় তাদের ওপর বোমা হামলা চালানো হলে উভয়ের মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আমাদের প্রায় পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের কালকিনি উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে ও সাজানো। গৌরনদী মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সংঘর্ষ এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ওসি আরও বলেন, এ বিষয়ে এখনো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।