জানা নিউজ

বাবুবাজার-বাদামতলীতে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, ২১ মামলা

রাজধানীর বাবুবাজার ও বাদামতলী এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক লালবাগ বিভাগ। অভিযানে ভাসমান দোকান, অবৈধ পার্কিং ও বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

এ সময় ২১টি মামলা দিয়ে লক্ষাধিক টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি ফুটপাত দখল করে ভাতের হোটেল পরিচালনার অভিযোগে এক দোকানদারকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত বাবুবাজার ব্রিজের নিচের বাদামতলী এলাকা থেকে ওয়াইজঘাট পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে বাবুবাজার ব্রিজের নিচে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ইজারা বাতিল করা চারটি ব্লকের অবৈধ ভাসমান দোকান, স্থাপনা ও পার্কিং উচ্ছেদ করা হয়।

একই সঙ্গে বাদামতলী থেকে ওয়াইজঘাট পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে গড়ে ওঠা অবৈধ পার্কিং, ফলের দোকানসহ সড়ক ও ফুটপাত দখল করে থাকা স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হয়।অভিযান শেষে ট্রাফিক লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, অবৈধ পার্কিং ও সড়ক অবরোধের কারণে ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের বিরুদ্ধে ২১টি মামলা করা হয়েছে।

এসব মামলায় আনুমানিক লক্ষাধিক টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় একটি দোকানের মালিককেও আটক করা হয়। 

তিনি বলেন, কমিশনারের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভারী যানবাহন চলাচলের নিয়ম রয়েছে। রাত ১০টার পর এসব যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে এবং সকাল ৮টার মধ্যে বের হয়ে যেতে হবে। নির্ধারিত সময়ের বাইরে কোনো ভারী যানবাহন পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বাবুবাজার ব্রিজ এলাকায় যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে ব্রিজে ওঠা-নামার দুটি সিঁড়ির কথা উল্লেখ করে ডিসি মফিজুল ইসলাম বলেন, সিঁড়ি দিয়ে যাত্রীরা ব্রিজে ওঠানামা করেন এবং বাসেও ওঠা-নামা করেন। এতে যানজট তৈরি হয়। তবে সিঁড়ি দুটি বন্ধ করা কতটা যৌক্তিক, তা আরও পর্যালোচনা প্রয়োজন। কারণ, সিঁড়ি দিয়ে নামলে মানুষ সহজেই পাশের মিটফোর্ড হাসপাতালে যেতে পারেন।

উচ্ছেদের বিষয়ে তিনি বলেন, রাস্তার ওপর কোনো দোকান বসতে দেওয়া হবে না। অনেক ক্ষেত্রে ট্রাককে ভ্রাম্যমাণ দোকান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। রাস্তার ওপর ট্রাক রেখে পেছনের অংশ খুলে পণ্য বিক্রি করা হয়। এতে দীর্ঘ সময় রাস্তা দখল হয়ে থাকায় যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। তাই ব্যবসায়ীদের রাস্তা ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে।

ট্রাফিক লালবাগ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।