পাবনা-৪ (ঈশ্বরদীুআটঘরিয়া) আসনে সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে. সন্ধ্যায় সাহাপুর ইউনিয়নের জগির মোড় থেকে চর আলহাজ মোড় পর্যন্ত কমপক্ষে দুই কিলোমিটার এলাকায় টানা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলও আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে কয়েকটি ভিডিও। এতে দেখা যায়, সামনে থাকা প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে এক যুবক আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গুলি ছুড়ছেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর তার পরিচয় মিলেছে। তার নাম তুষার মণ্ডল। তিনি ঈশ্বরদী পৌরসভার ভেলুপাড়া এলাকার তাহের মণ্ডলের ছেলে এবং পাবনা জেলা জামায়াতের আমির ও পাবনা-৪ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের ভাতিজা মামুনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফ অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত কর্মী তুষার মণ্ডল প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে গুলি চালিয়েছে। ভিডিওই তার প্রমাণ। সে মামুন মণ্ডলের সঙ্গে থেকে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়। সাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামদু মেম্বারের বলেন, ঘটনার দিন জামায়াতের কোনা গণসংযোগ ছিল না। হঠাৎ গাড়িবহর নিয়ে এসে মক্কেল মৃধা ও তার ছেলের ওপর হামলা চালানো হয়। তালেব মণ্ডল নিজেই গাড়ি থেকে অস্ত্র দিয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, জামায়াত আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে। পরে গ্রামবাসী প্রতিরোধ গড়লে তারা পালিয়ে যায়। এখন গুলির দায় উল্টো বিএনপির ওপর চাপাতে চাচ্ছে। অন্যদিকে পাবনা জেলা জামায়াতের আমির ও জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল দাবি করেন, অস্ত্র হাতে থাকা যুবক আমাদের দলের কেউ না। সংঘর্ষ উসকে দিয়ে বিএনপি এখন মিথ্যাচার করছে। তবে আবু তালেবের ভাতিজা মামুনের মোবাইল ফোনে বারবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, বিএনপিুজামায়াত দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রায় অর্ধশত মানুষ আহত হয়েছে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজসহ সব প্রমাণ বিশ্লেষণ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহল কবির রিজভীর সই করা বিবৃতিতে বলা হয়, নেতাকর্মী ও সাধারণ জনতার ওপর পরিকল্পিতভাবে স্থানীয় জামায়াতের অস্ত্রধারীরা হামলা করেছে। জামায়াত মনোনীত স্থানীয় সংসদ সদস্যপ্রার্থী আবু তালেব মন্ডল স্বয়ং এই আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এতে আরও অভিযোগ করা হয়, নির্বাচনি প্রচারকালে জামায়াত নেতাকর্মীরা তাদের সহজাত ধর্মীয় প্রলোভন ও জান্নাতের টিকিট বিক্রির মতো আপত্তিকর বিষয়কে প্রচারণার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করায় ধর্মপ্রাণ মানুষ প্রতিবাদ করে। এতে তাদের ওপর মারমুখী আক্রমণ করে জামায়াত কর্মীরা। পরে বিএনপির শান্তিপূর্ণ প্রচারে নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা হয়। একটি পত্রিকায় প্রকাশিত ছবিতে জামায়াত কর্মী তুষারকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে আক্রমণরত দেখা গেছে। অথচ দু-একটি গণমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রকাশ করছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সহিংসতার এই ঘটনার মাধ্যমে জামায়াতের উগ্রতার নগ্ন চিত্র দেশবাসীর সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিএনপি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক চর্চার প্রতি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। অপরদিকে অযৌক্তিক দাবি-দাওয়ার মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিঘ্নিত করার অপচেষ্টা জনগণ প্রত্যাখান করায় জামায়াত এখন সশস্ত্র আক্রমণের ঘৃণ্য পথ বেছে নিয়েছে। বিএনপি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনি পরিবেশ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। এই সংযম ও ঔদার্যকে দূর্বলতা মনে করা ঠিক হবে না। শত উসকানিতেও সংযম ও ধৈর্য প্রদর্শনে বিএনপি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। কারণ বিএনপি জানে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনিশ্চিত হলে দেশের মানুষের বহুল প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিক উত্তরণের স্বপ্ন নিঃশেষিত হয়ে যাবে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিএনপি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত ও বিচারের আওতায় এনে আগামী জাতীয় নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সরকারি পদক্ষেপের জোর দাবি জানায়।
Prev Post