বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির গোপন পরিকল্পনা নিয়ে ক্ষমা চেয়েও সমালোচকদের সন্তুষ্ট করতে পারেননি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। জুরিখে ফিফা কাউন্সিলের সভায় নিজের ‘ভুলের’ দায় স্বীকার করলেও বিতর্কিত পরিকল্পনা এবং বিশ্বকাপে ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি। এতে ইউরোপীয় ফুটবল কর্মকর্তাদের অসন্তোষ আরও বেড়েছে। সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠকে ৪২০ কোটি ডলারের বিশ্বকাপ বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা এবং বালোগুনের লাল কার্ড নিয়ে ইনফান্তিনোর কাছে ব্যাখ্যা চান কাউন্সিল সদস্যরা। জুলাইয়ে সমালোচনার মুখে বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনাটি বাতিল করা হয়। তবে বৈঠক শেষে জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান বের্ন্ড নয়েনডর্ফ বলেন, ‘কোনো সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি।’ ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান ও ফিফার সহসভাপতি ডেবি হিউইটও বলেন, ‘তিনি যদি এসব প্রশ্নের উত্তর না দেন, তাহলে ফিফার সভাপতি হওয়ার যোগ্য নন।’ এই অসন্তোষের মধ্যেই আগামী ১৮ মার্চ মরক্কোর রাজধানী রাবাতে ফিফা সভাপতি নির্বাচন হওয়ার কথা। ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত প্রার্থী মনোনয়নের সুযোগ থাকলেও ইনফান্তিনোর বিকল্প প্রার্থী খুঁজছেন বিরোধীরা। তবে আফ্রিকার ফুটবল কর্মকর্তাদের সমর্থন এখনো তাঁর বড় শক্তি। মৌরিতানিয়া ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান আহমেদ ইয়াহইয়া বলেন, ‘আমাদের কাছে মূল বিষয় হলো, আমরা মনে করি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোই ফুটবলের নেতৃত্ব চালিয়ে যাওয়ার জন্য সঠিক ব্যক্তি।’ এদিকে, সদস্য দেশগুলোর সমর্থন ধরে রাখতে আগামী চার বছরে ফিফার ২১১টি সদস্য ফেডারেশনের প্রতিটিকে অতিরিক্ত দেড় কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব এগিয়েছে। এর আগে ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রতিটি ফেডারেশনের জন্য এক কোটি ডলার বরাদ্দ ছিল। ফিফার ৩৭ সদস্যের কাউন্সিলই সংস্থাটির প্রধান সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পরিষদ। এর সদস্যরা বছরে আড়াই লাখ ডলার এবং মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থার সভাপতিরা তিন লাখ ডলার করে ভাতা পান। আগামী ১৬ ডিসেম্বর কাতারের দোহায় ফিফা কাউন্সিলের পরবর্তী সভা হওয়ার কথা। এর আগে ২৩ নভেম্বর বিশেষ কংগ্রেসে ২০৩১ ও ২০৩৫ নারী বিশ্বকাপের আয়োজক নির্ধারণ করা হবে। ২০৩১ সালের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কোস্টারিকা ও জ্যামাইকার যৌথ প্রস্তাব এবং ২০৩৫ সালের জন্য যুক্তরাজ্যের চারটি ফুটবল ফেডারেশনের প্রস্তাবই একমাত্র বিড।