জানা নিউজ

দলে ফিরেই জ্বলে উঠলেন শরিফুল

টসের ১০ মিনিট আগেও শরিফুল জানতেন না, তার দীর্ঘদিনের অপেক্ষা শেষ হতে চলেছে। কিন্তু ম্যাচের আগে ওয়ার্মআপে মোস্তাফিজ আচমকা চোট পাওয়ায় ভাগ্য খুলে যায় শরিফুলের। অথচ দলের তালিকা হাতে টস করতেও চলে গিয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তখনই ছুটলেন ফিল কোচ ফিল সিমন্স। মিরাজ ও ম্যাচ রেফারির সঙ্গে কথাও বললেন। এরপরই বিজ্ঞপ্ততিতে বিসিবি জানায়, চোটে ছিটকে যাওয়া ফিজের জায়গায় ফিরছেন শরিফুল। সাম্প্রতিক সময়ে শরিফুল কবে ওয়ানডে খেলেছেন সেটা বলাই মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ১৬ মাস আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে খেলা সিরিজে ৬ ওভারে দিয়েছিলেন ৫৪ রান, পাননি কোনো উইকেট। এরপর দীর্ঘদিন বাইরে থাকার পর গত মাসে পাকিস্তান সিরিজ দিয়ে স্কোয়াডে ফেরেন শরিফুল। সেটাও অবশ্য ভাগ্য পক্ষে আসায়। তানজিম হাসান সাকিব চোটের কারণে ছিটকে যান স্কোয়াড থেকে, তার জায়গাতেই ফেরানো হয় শরিফুলকে। ফেরার ম্যাচে অবশ্য সাফল্য পেতে মোটেও দেরী হয়নি শরিফুলের। ব্যক্তিগত তৃতীয় ওভারেই বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রু এনে দেন এই বাঁহাতি পেসার। শুরু থেকেই কিছু বল আচমকা নিচু হচ্ছিল। শরিফুল সেটাকেই কাজে লাগান। ইঞ্চি পরিমাণ খাটো লেন্থের বল। নিক কেলি পুল করার চেষ্টা করেছিলেন। বল তার ব্যাটের কানায় লেগে স্টাম্প ফেলে দেয়। বোল্ড! প্রথম ধাপে এক ওভার গ্যাপ দিয়ে ৫ ওভার করলেন শরিফুল। যেখানে ১টি মেইডেনের সঙ্গে মাত্র ৯ রান খরচায় নিলেন ১ উইকেট। নিজের পরের ওভারে অবশ্য আবার উইকেট পেতে পারতেন শরিফুল। কিন্তু উইল ইয়াংয়ের ক্যাচ স্লিপে ফেলে দেন সাইফ হাসান। ঞ্চম উইকেটে ৩৪ রানের জুটি গড়ে ধীরে ধীরে বোলারদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করছিলেন ফক্সক্রফট ও আব্বাস। তখন অফ স্টাম্পের বাইরে দারুণ এক ইনসুইং লেন্থ ডেলিভারি করেন শরিফুল। আব্বাস শুরু থেকেই এই ধরণের ডেলিভারিতে অস্বস্তি বোধ করছিলেন। সেই সুযোগটাই নেন শরিফুল, আব্বাসকে ড্রাইভ করতে বাধ্য করেন আর তাতে পিচ থেকে অতিরিক্ত বাউন্স পেয়ে বলটি ব্যাটের বাইরের প্রান্ত ছুঁয়ে সোজা উইকেটকিপারের গ্লাভসে গিয়ে জমা হয়। শরিফুল এদিন আর উইকেট পাননি। তবে ১০ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ২৭ রান। মোস্তাফিজ ফিট হয়ে গেলে অবধারিত ভাবেই তাকে আবার ডাগআউটে বসতে পারে। তবে শরিফুল ঠিকই দেখিয়েছেন সুযোগ কিভাবে কাজে লাগাতে হয়!