ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সব সময় দামি প্রসাধনী ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে না। ঘরে থাকা পরিচিত কিছু উপাদান দিয়েও ত্বকের যত্ন নেওয়া যায়। মুলতানি মাটি ও হলুদ দিয়ে তৈরি ফেসপ্যাক তেমনই একটি ঘরোয়া পদ্ধতি। সহজে তৈরি করা যায় বলে অনেকেই ত্বকের পরিচর্যায় এই মিশ্রণ ব্যবহার করেন। তবে যাদের ত্বক সংবেদনশীল, তাদের ফেসপ্যাকটি ব্যবহারের সময় কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।
মুলতানি মাটি ও হলুদের উপকারিতা
মুলতানি মাটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করতে সাহায্য করে। ফলে তৈলাক্ত ত্বক সতেজ ও কম তেলতেলে কমায়। অন্যদিকে হলুদ বহুদিন ধরেই ঘরোয়া রূপচর্চায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। হলুদের উপাদান ত্বকের যত্নে কাজে লাগানো হয় বলে অনেকেই ফেসপ্যাকে এটি মিশিয়ে নেন। তবে সবার ত্বকের ধরন এক নয়। তৈলাক্ত ত্বকে যে উপাদান স্বস্তি দেয়, তা শুষ্ক বা সংবেদনশীল ত্বকে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। তাই নিজের ত্বকের ধরন বুঝে ফেসপ্যাক ব্যবহার করা ভালো।
যেভাবে তৈরি করবেন মুলতানি মাটি ও হলুদের ফেসপ্যাক
এই ফেসপ্যাক তৈরি করতে প্রথমে একটি পরিষ্কার পাত্রে এক টেবিল চামচ মুলতানি মাটি নিন। এর সঙ্গে এক চিমটি হলুদ গুঁড়া ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এবার অল্প অল্প করে পানি বা গোলাপ জল মিশিয়ে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। খেয়াল রাখবেন, মিশ্রণটি যেন খুব বেশি পাতলা না হয়। ফেসপ্যাক ব্যবহারের আগে মুখ পরিষ্কার করে নিন। এরপর আঙুলের সাহায্যে মুখে পাতলা করে মিশ্রণটি লাগান। চোখ ও ঠোঁটের চারপাশের অংশ এড়িয়ে চলুন। ১০ মিনিট পর পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। ফেসপ্যাকটি পুরোপুরি শুকিয়ে ত্বকে টান ধরার আগেই ধুয়ে নেওয়া ভালো। সবশেষে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।
সংবেদনশীল ত্বকে ব্যবহারের সময় যা খেয়াল রাখবেন
যাদের ত্বক সংবেদনশীল, তারা ফেসপ্যাক ব্যবহারের আগে হাতের ভেতরের দিকে বা কানের পেছনে অল্প মিশ্রণ লাগিয়ে পরীক্ষা করে নিতে পারেন। সম্ভব হলে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করুন। জ্বালা, চুলকানি, লালচে ভাব বা অন্য কোনও অস্বস্তি দেখা দিলে মুখে ব্যবহার করবেন না। ফেসপ্যাক লাগানোর পর ত্বকে জ্বালাপোড়া বা অতিরিক্ত টান অনুভব করলে অপেক্ষা না করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। শুষ্ক ত্বকে মুলতানি মাটি ব্যবহারের পর শুষ্কতা বাড়তে পারে, তাই এ ধরনের ত্বকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ত্বকে ক্ষত, জ্বালা বা প্রদাহ থাকলে ফেসপ্যাক ব্যবহার না করাই ভালো।
ত্বকের যত্নে নিয়মিত অভ্যাসও জরুরি
শুধু ফেসপ্যাক ব্যবহার করলেই ত্বক ভালো থাকবে, এমন নয়। পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাবার, নিয়মিত ঘুম এবং ত্বক পরিষ্কার রাখার অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ময়েশ্চারাইজার এবং দিনের বেলায় উপযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে পারেন।
ঘরোয়া উপাদানে রূপচর্চা করতে চাইলে নিজের ত্বকের ধরন বুঝে উপকরণ বেছে নিন। ত্বকে অস্বস্তি দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করুন। আর দীর্ঘদিন ধরে ত্বকের সমস্যা থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।