তিনি আরও বলেন, এখানে তারা দুজনই এসেছিলেন। অন্য কেউ তাদের সঙ্গে ছিলেন না। উত্তরা থেকে ঘোরার উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলে করে তারা এখানে আসেন বলে দীপ জানিয়েছেন। তবে এখানে আসার পর কী ঘটেছিল, কোথায় গিয়েছিলেন কিংবা কী কারণে তাদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা তৈরি হলো, সেসব বিষয় এখনো তদন্তাধীন।
দীপকে আটক করা হয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সাজেদুর রহমান বলেন, তাকে আটক করা হয়নি। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রথম দিকে তিনি কিছুটা ভয় পেলেও পরে বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তবে তার বক্তব্যের বিভিন্ন দিক যাচাই করা হচ্ছে।
মোটরসাইকেল উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। এর নম্বর প্লেট ও ইঞ্জিন নম্বর যাচাই করে মালিকানা-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
তাহসিফের মৃত্যু হত্যা, আত্মহত্যা নাকি দুর্ঘটনা, সে বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় জানিয়ে পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা বলেন, তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় মেডিকেল তথ্য পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানা যাবে।
এর আগে, গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। এর আগে আহমেদ শাহরিয়ায় রেজা দীপ তার বাসায় যান। সেখান থেকে দুজনকে আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে বের হতে দেখা যায়। পরিবারের দাবি, দীপের ডাকেই বের হয়েছিলেন তাহসিফ, এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ মেলেনি।
পরদিন বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ৯৯৯-এ খবর পেয়ে উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। তার হাতের ঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের মাধ্যমে স্বজনেরা পরিচয় শনাক্ত করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।