জানা নিউজ

জ্বালানি তেলের জন্য পাম্পে দীর্ঘ লাইন, সীমিত পরিমাণে মিলছে তেল

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ফিলিং স্টেশনের সামনে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ যানবাহনের সারি। নির্ধারিত সীমার মধ্যে তেল দেওয়া হলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সকাল থেকেই মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার নিয়ে চালকেরা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহের চেষ্টা করেন। অনেককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।

রাজধানীর আসাদগেট এলাকার সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশনে মোটরসাইকেলে তেল নিতে আসা আমজাদ হোসেন বলেন, “ভেবেছিলাম সকাল সকাল এলে ভিড় কম থাকবে। কিন্তু এসে দেখি এখানেও লম্বা লাইন। আশা করছি ঘণ্টাখানেকের মধ্যে তেল নিয়ে যেতে পারবো।”

চালকদের অভিযোগ, সীমিত পরিমাণে তেল দেওয়ায় দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। প্রাইভেটকার চালক ইদ্রিস মিয়া বলেন, “এখন ব্যক্তিগত গাড়িতে ১০ লিটার আর এসইউভি বা মাইক্রোবাসে ২০ থেকে ২৫ লিটার করে দেওয়া হচ্ছে। এতে অনেক সময় এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরে তেল খুঁজতে হচ্ছে।”

মোটরসাইকেল চালক রবিউল হুসাইন জানান, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে প্রায় এক ঘণ্টা পর তেল পেয়েছেন তিনি। হাসিমুখে তিনি বলেন, “আজ সোনার বাংলা স্টেশন মোটরসাইকেলের জন্য ৫০০ টাকার তেল দিচ্ছে। এতে দুই দিন চালানো যাবে।”

ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাদের কাছে যতক্ষণ জ্বালানি থাকে ততক্ষণই বিক্রি করা হচ্ছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় চাপ বাড়ছে। এক স্টেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, “বিপিসি থেকে আগের তুলনায় কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।”

দেশের অন্যান্য এলাকাতেও একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। অনেক স্থানে তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন চালকেরা, কোথাও কোথাও বচসার ঘটনাও ঘটেছে। সহজে তেল না পাওয়ায় বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোও বিপাকে পড়েছে। তারা বলছে, পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ায় উৎপাদন ও পণ্য পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

জ্বালানি সংকটের পেছনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহে প্রভাব পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ফিলিং স্টেশনগুলোতে সরবরাহ কমিয়েছে। জানা গেছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কম তেল দেওয়া হচ্ছে।

তবে সরকার বলছে, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে রেশনিং পদ্ধতিতে সরবরাহ করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সমুদ্রে থাকা কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ বাংলাদেশে পৌঁছাতে শুরু করেছে। সেগুলো থেকে সরবরাহ শুরু হলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

এদিকে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও পরিবহন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। তেল ডিপো, রিফাইনারি, পাম্প ও সংরক্ষণাগারে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মজুদদারি ও কালোবাজারি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।