শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাংলাদেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা আইনজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিভিন্ন অধ্যায় তুলে ধরা হয়। বক্তারা জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্র পরিচালনা, বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং প্রশাসনিক সংস্কারের ভূমিকাকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রকে স্থিতিশীলতার পথে নিয়ে আসেন। তার ভাষায়, “গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে জিয়াউর রহমানের অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি গড়ার ক্ষেত্রেও জিয়াউর রহমানের ভূমিকা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকাও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার নেতৃত্ব দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন একদিনে গড়ে ওঠেনি, এর পেছনে দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ এবং আন্দোলনের ধারাবাহিকতা রয়েছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের অংশ। তার মতে, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান এবং সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলো একই ধারার গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ আইনজীবী নেতারা। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং সঞ্চালনা করেন সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইলতুতমিশ সওদাগর এ্যানি।
আলোচনা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।