মৃত্যুবার্ষিকী যিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে পরিচিত, ছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে
বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রতি বছর এই দিনটি তাঁর অবদান ও সৃষ্টিশীলতাকে স্মরণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করার জন্য পালিত হয়। কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালের ২৪ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর সাহিত্য কর্মে বিদ্রোহ, মানবতা, সাম্য এবং প্রেমের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে। তিনি বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করেন এবং তাঁর কবিতা, গান এবং প্রবন্ধে শোষিত মানুষের অধিকারের পক্ষে আওয়াজ তুলেছিলেন।
কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একাধারে কবি, গীতিকার, সুরকার ও ঔপন্যাসিক। তাঁর বিখ্যাত কবিতা “বিদ্রোহী” বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা। এছাড়া তাঁর রচিত “অগ্নিবীণা,” “দোলনচাঁপা,” এবং “সঞ্চিতা” কাব্যগ্রন্থগুলো বাংলা সাহিত্যে স্থায়ী আসন লাভ করেছে।
বাংলাদেশ সরকার নজরুলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাধিস্থ করে। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে সারা দেশে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। তাঁর রচনার মাধ্যমে তিনি এখনও কোটি মানুষের হৃদয়ে জীবিত।
কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন মানবতার কবি, বিদ্রোহের কবি। তাঁর সাহিত্যকর্ম আমাদের স্বাধীনতার চেতনাকে জাগ্রত করেছে এবং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা তাঁকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করি।