মার্তিনেস বলেন, ‘সত্যি বলতে, মাথার চেয়ে চোয়ালে আঘাত লাগা ভালো। জীবনের অন্যতম সেরা নকআউট ছিল এটি। ইউএফসিতে হলে দিনের সেরা নকআউট হতো। কয়েক দিন ধরে চোখে পাখি দেখছিলাম।’
সেদিনের ঘটনা কতটা ভয়াবহ ছিল, সেটিও জানিয়েছেন তিনি। মার্তিনেসের ভাষায়, ‘আমার শুধু মনে আছে, কাইসেদো (ময়েসেস) ফাউল করেছিল। এরপর কীভাবে মাঠ ছাড়লাম, কী হয়েছিল, এমনকি মাঠ থেকে বের হওয়ার ঘটনাও আমার মনে নেই।’
অস্ত্রোপচারের বিস্তারিত জানিয়ে মার্তিনেস বলেন, ‘চোয়ালে একটি প্লেট বসিয়ে চারটি স্ক্রু লাগানো হয়েছে। তিনটি দাঁতও ঠিক করে আটকে দেওয়া হয়েছে। একটি স্ক্রু বাইরে দিয়ে, বাকি তিনটি ভেতর দিয়ে লাগানো হয়েছে। এখন কিছুই খেতে পারছি না, শুধু পিউরি খাচ্ছি। একেবারে শিশুর মতো অবস্থা।’
খাবার খেতে না পারলেও ওজন কমেনি বলে জানিয়েছেন তিনি। পুষ্টিবিদের পরামর্শে শরীরের যত্ন নিচ্ছেন। তবে অনুশীলনের সময় মাঝেমধ্যে শক্তির ঘাটতি অনুভব করছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসকদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেছেন মার্তিনেস। তিনি জানান, মুখ দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় চিকিৎসকেরা প্রথমে বুঝতে পারছিলেন না, মাথার পেছনে নাকি ঘাড়ে সমস্যা হয়েছে। তাই সবকিছু পরীক্ষা করে সতর্কতার সঙ্গে চিকিৎসা দিয়েছেন তারা।
ক্যারিয়ারে অস্ত্রোপচার ছাড়াই খেলা শেষ করার ইচ্ছা ছিল মার্তিনেসের। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম অস্ত্রোপচার ছাড়াই ক্যারিয়ার শেষ করতে। এর আগে কখনো এমন অভিজ্ঞতা হয়নি। শেষ পর্যন্ত দুই মাসের মধ্যে দুবার অস্ত্রোপচার করাতে হলো। তবে এটাই ফুটবল।’
এদিকে নভেম্বরে আর্জেন্টিনার আন্তর্জাতিক বিরতির ম্যাচ দুটিতে খেলার আশাও করছেন মার্তিনেস। লা বোম্বোনেরায় উরুগুয়ে এবং কর্দোবার মারিও আলবের্তো কেম্পেস স্টেডিয়ামে কোস্টারিকার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
জাতীয় দলে খেলার বিষয়ে মার্তিনেস বলেন, ‘আমি যাচ্ছি। মার্তিন (তোকালি) ও স্কালোনির সঙ্গে কথা হয়েছে। দুটি ম্যাচেই খেলার জন্য প্রস্তুত থাকার পরিকল্পনা আমার। প্রথম নাকি দ্বিতীয় ম্যাচে খেলতে পারব, তা জানি না। শারীরিক অবস্থা এবং সপ্তাহজুড়ে অনুশীলনে কেমন অনুভব করি, তার ওপর সবকিছু নির্ভর করছে।’