সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ না করে স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন নতুন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেছেন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করাই মন্ত্রণালয়ের কাজ।
রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কর্মদিবসে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সকাল ৮টা ২০ মিনিটে সচিবালয়ে পৌঁছান আন্দালিব রহমান পার্থ। সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের সম্মেলনকক্ষে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি। এ সময় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।
মতবিনিময় সভায় তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের ভালো কাজগুলো জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের সংস্কৃতি, মূল্যবোধ, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে গুরুত্ব দেওয়ার দায়িত্ব তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের রয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি কঠিন সময়ে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দেশের কল্যাণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কাজ করতে গিয়ে ভুল-ত্রুটি হতে পারে, তবে নৈতিকতার জায়গায় সরকার শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সেবা এবং জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যম গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। গত ১৭ বছরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে লড়াই হয়েছে, সেখানে সংবাদমাধ্যমেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, নানা ধরনের নিয়ন্ত্রণ ও চাপের মধ্যেও সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে মানুষ সরকারের ব্যর্থতা, অনিয়ম, নির্যাতন ও গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের বিভিন্ন তথ্য জানতে পেরেছে। তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ভূমিকা কোনোভাবেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।
গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, “মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা নয়।” প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। কোনোভাবেই যেন নিয়ন্ত্রণের পথে যাওয়া না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবস্থার ক্ষতির বিষয়টিও তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবস্থায় যে ক্ষতি হয়েছে, তা মেরামত করে নতুন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সময় লাগবে। বিচার বিভাগ, রাজনীতি, সংসদসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে তৈরি হওয়া নৈতিক অবক্ষয় কাটিয়ে ওঠার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান আন্দালিব রহমান পার্থ। নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার যে স্বপ্ন, সেটিকে সামনে রেখে জনগণের স্বার্থ রক্ষা, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান মেরামত এবং নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের কোনো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যেন অন্যায় না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, “আপনারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে আমার চেয়ে অনেক বেশি অভিজ্ঞ ও দক্ষ।” তাঁদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি একসঙ্গে কাজ করতে চান বলেও জানান।
মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।