সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বসুন্ধরা ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিকভাবে প্ল্যান্টটির উদ্বোধন করা হয়।
জিইআরসি-র পরিচালক এবং ট্রিপল-ই বিভাগের অধ্যাপক ড. খসরু মোহাম্মদ সেলিম জানান, ২০২৩ সালে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। ওই বছর আইইউবির ট্রিপল-ই বিভাগের একদল স্নাতক শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্যে আয়োজিত এফিসিয়েন্সি ফর অ্যাকসেস ডিজাইন চ্যালেঞ্চ এ অংশ নিয়ে উগান্ডার মেকে রেরে ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যৌথভাবে সৌরবিদ্যুৎচালিত একটি স্বয়ংক্রিয় বায়োডাইজেস্টারের ধারণা তৈরি করেন।
প্ল্যান্টটিতে ক্যানটিনের সবজি ও ফলের উচ্ছিষ্টাংশ এবং রান্নার অবশিষ্টাংশসহ বিভিন্ন জৈব বর্জ্য প্রথমে বিশেষভাবে তৈরি একটি শ্রেডার ও ব্লেন্ডারের মাধ্যমে পানির সঙ্গে মিশিয়ে তরল মিশ্রণে পরিণত করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই বাস্তবতায় আমাদের বিকল্প ও স্থানীয় জ্বালানির উৎসগুলো কাজে লাগানোর দিকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) গ্রিন এনার্জি রিসার্চ সেন্টার সৌরশক্তি এবং ক্যান্টিনের জৈব বর্জ্য ব্যবহার করে একটি উদ্ভাবনী বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট তৈরি করেছে।
জিইআরসি-র পরিচালক এবং ট্রিপল-ই বিভাগের অধ্যাপক ড. খসরু মোহাম্মদ সেলিম বলেন,
দীর্ঘ দুই বছরের গবেষণার পর এই বায়োগ্যাস সিস্টেমটি সফলভাবে চালু করা সম্ভব হয়েছে।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি থেকে বাস্তবায়ন
২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আইইউবি এবং উগান্ডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যৌথভাবে অংশ নেন। ওই প্রতিযোগিতায় তাঁদের প্রস্তাবিত ক্যান্টিনের বর্জ্য ও সৌরশক্তি ব্যবহার করে বায়োগ্যাস উৎপাদন প্রজেক্টটি প্রথম স্থান অর্জন করে ‘গোল্ড অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করে। এই সাফল্য অর্জনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বোর্ড অব ট্রাস্টি’ প্রজেক্টটির অর্থায়নে এগিয়ে আসে এবং ক্যাম্পাসে একটি পূর্ণাঙ্গ প্ল্যান্ট তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রফেসর সেলিম আরো বলেন, প্রজেক্টটি সফল করতে একাধিক দল কাজ করেছে। খাদ্যের কঠিন বর্জ্য দ্রুত তরল করে বায়োডাইজেস্টারে দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীরা থ্রিডি ডিজাইন সফটওয়্যার ব্যবহার করে ৩ হর্সপাওয়ারের একটি শক্তিশালী ব্লেন্ডার তৈরি করেছে। এই পুরো ব্লেন্ডার ও মোটরটি চালানোর জন্য একটি নিজস্ব সোলার ড্রাইভার ও ভ্যারিয়েবল ফ্রিকোয়েন্সি ড্রাইভ (VFD) তৈরি করা হয়, যা সৌরশক্তিতে চলে।
উচ্চ গ্যাস উৎপাদন হার:
ডিরেক্টর প্রফেসর খসরু মোহাম্মদ সেলিম বলেন সাধারণত গোবর থেকে বায়োগ্যাস তৈরি করতে ২০ কেজি গোবর লাগে ১ ঘনমিটার গ্যাসের জন্য। তবে উদ্ভাবিত এই সিস্টেমে ৪ থেকে ৫ কেজি ফুড ওয়েস্ট থেকেই ১ ঘনমিটার গ্যাস পাওয়া যায়—যা গোবরের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি উৎপাদনশীল।
সংরক্ষণ ও বহনযোগ্যতা:
উৎপাদিত গ্যাস ৪ ঘনমিটারের একটি বিশেষ স্টোরেজ ব্যাগে জমা করা হচ্ছে, যা প্রয়োজনে যেকোনো স্থানে সহজে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
নগরাঞ্চলে বায়োগ্যাস প্রযুক্তির প্রয়োগ একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ডিরেক্টর জানান, এই প্রজেক্টের পরবর্তী ধাপে উৎপাদিত বায়োগ্যাস থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ফুড ড্রায়ারসহ অন্যান্য ভ্যালু-অ্যাডেড কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। অতিরিক্ত গ্যাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনেই ব্যবহার করা হবে।
খাদ্যবর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস ও জৈব সার উৎপাদনের এই উদ্যোগ ছোট পরিসরে হলেও বর্জ্যকে কীভাবে সম্পদে রূপান্তর করা যায়, তার একটি বাস্তব উদাহরণ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টিবৃন্দ, উপ-উপাচার্যসহ জ্যেষ্ঠ শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা।